শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
সাবেক আইজিপির স্বীকারোক্তিতে খুলছে জুলাই গণহত্যার অন্ধকার মুখ!
অনলাইন ডেস্ক
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ট্রাইব্যুনালে তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে, সব তথ্য সামনে আনার ইচ্ছা পোষণ করছি। তিনি স্বপ্রণোদিতভাবে রাজসাক্ষী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, গণহত্যার সব সত্য আমি প্রকাশ করতে চাই।
পরবর্তীতে তার আইনজীবী জায়েদ বিদ আমজাদ জানান, কোর্টে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করা হয়েছে, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেছেন। এতে তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হবে।
এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের মামলায় অব্যাহতি আবেদন খারিজ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বেঞ্চ, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এর ফলে জুলাই গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
সকালে জুলাই গণহত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গত ১২ মে জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে ওই গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করেন ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। প্রসিকিউশনের আবেদনের কারণে সময়সীমা বর্ধিত করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে নিরস্ত্র ছাত্র ও জনতার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলন দমনে গণহত্যা চালায়, যেখানে প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।সাবেক আইজিপির স্বীকারোক্তিতে খুলছে জুলাই গণহত্যার অন্ধকার মুখ!