শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে সাবেক সিইসি এখন জেলের আসামি!
অনলাইন ডেস্ক
রাষ্ট্রদ্রোহ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রহসনের নির্বাচনের অভিযোগে রাজধানীর শেরে বাংলা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার জামিন আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।
বুধবার (২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।
ওইদিন নুরুল হুদার পক্ষে তার আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজিব জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ তীব্রভাবে জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের যুক্তি শুনে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নুরুল হুদার আইনজীবী গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা জামিনের আবেদন করেছিলাম। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তা নামঞ্জুর করেছেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গতকালই এই মামলায় দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নুরুল হুদা। দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হলে তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ডের আবেদন করেন। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমান জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভয়ভীতি, কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তিনজন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বিএনপি। গত ২২ জুন বেলা সোয়া ১১টার দিকে শেরে বাংলা থানায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান এ মামলা করেন। মামলায় সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজির আহমেদ ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উত্তেজিত জনতা উত্তরার বাসা থেকে নুরুল হুদাকে ধরে মারধর ও অপমান করে। এসময় বাসায় ঢুকে তাকে হেনস্তা করে, অনেকে সামাজিক মাধ্যমে লাইভও প্রচার করেন। পরদিন ২৩ জুন তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
পরবর্তীতে ২৫ জুন মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের ধারাও যুক্ত করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই তিনটি জাতীয় নির্বাচনে গায়েবি মামলা, অপহরণ, গুম ও খুনের ভয় দেখিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার করে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়। সংবিধান লঙ্ঘন, আচরণবিধি ভঙ্গ, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ভোটে ভয়ভীতি ছড়ানো এবং ভোটারবিহীন বিজয়ী ঘোষণা করা—আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।