শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
রাজনীতি নয়, লুটই ছিল তাদের আসল ব্যবসা!
অনলাইন ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা মো. মাহবুবুর রহমান খান এবং তাঁর ছেলে যুবলীগ নেতা কে এম মাহমুদ হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। প্রায় ৩২৯ কোটি টাকা আত্মসাতের বিস্ফোরক অভিযোগে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—যেখানে ব্যাংক থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যক্তিরাও ক্ষতিগ্রস্ত।
গত রোববার (২৯ জুন) ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে করা অভিযোগ আমলে নিয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম জেলা জজ রুবায়েত ফেরদৌস তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেন।
তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালে সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমান খান ও তাঁর ছেলে রূপালি ব্যাংক থেকে নেন ১৬৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ কোটিতে। এর আগে ২০১১ সালে তিন ধাপে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকেও নেয়া হয় আরও বিপুল অঙ্কের ঋণ।
সাউথইস্ট ব্যাংকের মামলা নথিতে উঠে এসেছে: ২১০১/২০১১ নম্বর মামলায় ৭৮ কোটি ৮৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা, ২১০২/২০১১ নম্বরে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ও ২১০৩/২০১১ নম্বরে ২৭ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের কথা। এর বাইরেও কাগজ ব্যবসায়ী মো. ইসহাক দুলালের কাছ থেকে দুই দফায় ১১ কোটি টাকার বেশি নেওয়া হয়—ফিরিয়ে না দেওয়ায় দুলাল নিজেই দায়ের করেন দুটি মামলা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন সরকারের ঘনিষ্ঠ এবং সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয় হওয়ার সুবাদে মাহবুব ও তাঁর ছেলে ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। চুক্তি করেও তারা টাকাগুলো ফেরত দেননি, এমনকি ব্যাংকগুলোও আদালতের শরণাপন্ন হয়েও সফল হয়নি। পরিস্থিতির পরিবর্তনে এবার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আইনজীবীদের সহায়তায় আদায় প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
এই পরিবারটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দুর্নীতিসহ ১৪টি মামলা চলমান। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তারা টাকা পরিশোধ না করে গোপনে দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইসহাক দুলাল আদালতে মামলা দায়ের করার পাশাপাশি পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগ রোধে আবেদন করলে ২২ জুন আদালত তাদের অনুপস্থিত থাকার প্রেক্ষিতে চূড়ান্তভাবে নিষেধাজ্ঞা দেন।
গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসহাক দুলাল বলেন, “মাহবুব ও তাঁর ছেলে ছিলেন ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে ধাপে ধাপে আমার কাছ থেকে ১১ কোটি টাকা নেয়। এখন প্রতারণার দায়ে আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, “স্থানীয় এক সাবেক মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় থেকে এ পরিবার সব ধরনের দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যেত। এমনকি জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর হামলার নির্দেশও এসেছিল এই পরিবার থেকেই। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় মামলা রয়েছে।”
ইসহাক আরও বলেন, “সরকার পতনের পর এই বাবা-ছেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এখন বিদেশে পালাতে চাইছে। কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী এই চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।”