শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
বিশ্ববিদ্যালয় হারালো এক নির্ভরযোগ্য, প্রিয় ও স্মরণীয় সহকর্মী!
মামুন মোল্লা, খুলনা জেলা প্রতিনিধি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রিয় মুখ, ল্যাব অফিসার জনাব মোঃ সাইদুল ইসলাম (নান্না) আর নেই। গত ১৩ মে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। কুয়েট পরিবার হারালো তাদের এক নিষ্ঠাবান, কর্মঠ ও অতি আপনজনকে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
পরদিন, ১৪ মে বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং কর্মকর্তারা গভীর শ্রদ্ধায় অংশগ্রহণ করেন। কান্নাভেজা চোখে তাঁকে বিদায় জানান সকলে। তাঁর সততা, সদাচরণ এবং সহযোগিতার মনোভাব আজও সকলের হৃদয়ে অমলিন স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “মোঃ সাইদুল ইসলাম (নান্না) ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন বিশ্বস্ত সদস্য। তিনি তাঁর দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণের মাধ্যমে সকলের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতি কুয়েট পরিবারে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করবে।” তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
মরহুম মোঃ সাইদুল ইসলাম শুধু একজন দক্ষ ল্যাব অফিসারই নন, তিনি ছিলেন এক বন্ধুবৎসল সহকর্মী, যাঁর হাসিমুখ, সহানুভূতি এবং দায়িত্বশীলতা আজ কুয়েটের প্রত্যেক সদস্যের মনে এক গভীর ছাপ রেখে গেছে। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রান্ত যেন থমকে গেছে। সহকর্মীরা বলছেন, তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর ওপর নির্ভর করা যেত নিঃসঙ্কোচে। তাঁর উপস্থিতিই ছিল এক নির্ভরতার প্রতীক।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করার পরিকল্পনা করছে। এ রকম একজন প্রিয় মুখের প্রস্থান কেবল একটি শূন্যতা নয়, বরং এক বেদনার গল্প, যা দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে নাড়া দেবে।
জনাব মোঃ সাইদুল ইসলামের আত্মার শান্তি কামনায় গোটা কুয়েট পরিবার আজ একত্রিত। তাঁর জীবনের কর্মনিষ্ঠা ও মানবিক গুণাবলি নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে – এ প্রত্যাশাই করেন তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।