শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
‘ভালোবাসি লিসা’ স্ট্যাটাসের পেছনে প্রেমবেদনার হৃদয়বিদারক গল্প।
অনলাইন ডেস্ক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী প্রেমঘটিত কারণে হলের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। লাফ দেয়ার আগেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘ভালোবাসি লিসা, কেন এমন করল?’ অন্য একটি পোস্টে বাবাকে ‘জানোয়ার’ বলে অভিহিত করে মায়ের কাছে মৃত্যুর জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন তিনি।
বুধবার (২৫ জুন) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের চারতলার ছাদ থেকে লাফ দেন ওই শিক্ষার্থী। এতে তার দুই পা ভেঙে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।
গণমাধ্যম জানায়, ওই শিক্ষার্থীর নাম সাদ আহমেদ। সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আত্মহত্যার আগে সাদ আহমেদ ফেসবুকে একাধিক পোস্ট করেন। তার শেষ পোস্টে ছিল, ‘ভালোবাসি লিসা। লিসা তুমি জানতা, তোমাকে আমি কতটা ভালোবাসি তবুও কেন এমন করল? সব জায়গায় একই চেষ্টা, একই কথা কীভাবে পারলে লিসা? মানুষ এতটা সাইকো কীভাবে হয়? তোমাকে তো বলেছিলাম আমার সঙ্গে চিট করলে আমারও মরা ছাড়া উপায় থাকবে না। এত কিছু বুঝিয়েও তুমি বুঝলে না।’
আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সরি আম্মু, পারলে আমাকে মাফ করে দিও। তুমি আমার আম্মু ছিলে, তুমি আমার আব্বু ছিলে। আর আমার বাবা একটা জানোয়ার।’
অন্য একটি পোস্টে তার কথাগুলো ছিল, ‘সময় না থাকার কারণে ভালোভাবে বলতে পারলাম না। আমার খুব ইচ্ছা আমার কবর হবে মসজিদের পাশে, যেখান থেকে ইমামের তেলাওয়াত শুনতে পারব। আর প্লিজ কেউ আমার মাকে একটু আর্থিক সাহায্য করবেন।’
হলের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনতলায় উঠে একজন জোরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে এবং মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, তিনি বাইরে ছিলেন। ঘটনাটি শুনে হলে গিয়ে দেখেন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ফার্স্ট ব্লকের চারতলা থেকে লাফ দেয়ার সময় সম্ভবত তার পা ভেঙে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে এবং তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।