1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
সন্তান জন্মের পর বাড়ছে নারীদের অবসাদ ও উদ্বেগের ঝুঁকি - Janatar Jagoron
  • E-paper
  • English Version
  • মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
জামালপুরে ইউনিয়ন মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্লাটফর্মের পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা মূল্যায়ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পাঁচ ধাপে চায় বিএনপি ক্যাডেট এএসআই নিয়োগে ভুয়া পরীক্ষার্থীসহ চারজন গ্রেপ্তার জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির যৌথসভা অনুষ্ঠিত ইরানি সেনাবাহিনীর কঠোর জবাবের অঙ্গীকার, চুক্তিতে নতুন শর্ত সাহাবুদ্দিন চুপ্পুসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার মামলা বিএনপি নিয়ে জামায়াতের মন্তব্যে মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাল এনসিপি রাষ্ট্রপতি অবসর সুবিধা কী পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন মশার কয়েল জ্বালাতে বিস্ফোরণে দগ্ধ পোশাকশ্রমিক দম্পতি

সন্তান জন্মের পর বাড়ছে নারীদের অবসাদ ও উদ্বেগের ঝুঁকি

  • সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩৮ বার পঠিত
নারীদের অবসাদ

সন্তানের জন্ম সাধারণভাবে আনন্দঘন মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হলেও বাস্তবে অনেক নারীর জন্য এই সময়টি মানসিকভাবে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। হঠাৎ শারীরিক পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, নতুন দায়িত্বের চাপ এবং সামাজিক প্রত্যাশা একসঙ্গে অনেক মাকে ঠেলে দেয় গভীর মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগের দিকে। এই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসবোত্তর অবসাদ।

দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা শ্রবণা গুপ্ত জানান, মেয়ের জন্মের কয়েক দিনের মধ্যেই তার মন ভালো থাকত না। বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করত না, অকারণে চোখে জল চলে আসত, খাবারে আগ্রহ কমে যায় এবং কথায় কথায় রেগে যেতেন। কী কারণে এমন হচ্ছে, তা নিজেও বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

এই অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তিনি জানতে পারেন, তিনি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছেন।

কলকাতার আরেক নারী, যিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, জানান—দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই তার মেজাজ দ্রুত খারাপ হয়ে যেত। শিশুর কান্না সহ্য করতে পারতেন না। কখনো কখনো নিজেকে সামলাতে না পেরে কানে বালিশ চেপে বসে থাকতেন। শুরুতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। তারা মনে করেছিলেন, তিনি হয়তো দায়িত্ব এড়াতে চাইছেন কিংবা বাড়তি মনোযোগ প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু তার ভেতরের মানসিক লড়াই কাউকে বোঝানো সম্ভব হয়নি।

এর আগেও প্রথম সন্তানের সময় তার একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তবে তখন চিকিৎসকের সাহায্য নেননি। দ্বিতীয়বার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় চিকিৎসকের কাছে গেলে জানা যায়, তিনিও পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে আক্রান্ত।

নতুন নয়, তবুও অবহেলিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান জন্মের পর মায়েদের অবসাদে আক্রান্ত হওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু নারী এই সমস্যার সম্মুখীন হন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, গর্ভাবস্থায় প্রায় ১০ শতাংশ নারী এবং সন্তান জন্মের পর প্রায় ১৩ শতাংশ নারী অবসাদে ভোগেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই হার তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের সতর্কতা, সময়মতো চিকিৎসা না হলে এই অবসাদ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে মায়ের আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ে এবং শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।

ভারতেও নতুন মায়েদের মধ্যে এই সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা গেলেও বহু ক্ষেত্রে তা শনাক্তই হয় না।

পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কী

স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. কৃষ্ণা ঘোষ বলেন, গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে সন্তান জন্মের পর পর্যন্ত একজন নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান। সন্তান জন্মের পর প্রথম ছয় সপ্তাহের মধ্যে যে অবসাদ দেখা দেয়, সেটিই পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন।

তার মতে, ভারতে বড় সমস্যা হলো—অনেক নারী চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। ফলে বিষয়টি অজানা থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে।

নিউরোসাইকিয়াট্রিস্ট ডা. রাজর্ষি নিয়োগী জানান, পোস্টপার্টাম সমস্যাকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমটি পোস্টপার্টাম ব্লুজ। এতে মন খারাপ থাকা, কান্না পাওয়া, ঘুমের সমস্যা ও মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবারের সমর্থন, কাউন্সেলিং ও জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তনেই এটি সেরে যায়।

দ্বিতীয়টি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন। এতে দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকা, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, নিজেকে অযোগ্য মনে হওয়া এবং সন্তানকে ঠিকভাবে বড় করতে পারবেন না—এই ভয় কাজ করে।

তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুতর অবস্থা হলো পোস্টপার্টাম সাইকোসিস। এটি সাধারণত সন্তানের জন্মের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই দেখা দেয়। এতে মা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন, বিভ্রম দেখা দিতে পারে এবং নিজের বা সন্তানের ক্ষতি করার চিন্তাও আসতে পারে।

কখন লক্ষণ শুরু হয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও ক্ষেত্রে সন্তানের জন্মের কয়েক দিনের মধ্যেই উপসর্গ দেখা দেয়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে বাড়ি ফেরার পর ধীরে ধীরে সমস্যা স্পষ্ট হয়। চিকিৎসা না হলে এই অবসাদ আট মাস থেকে এক বছর বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।

কেন হয় এই সমস্যা

ডা. রাজর্ষি নিয়োগীর মতে, হরমোনের হঠাৎ পরিবর্তন, জটিল গর্ভাবস্থা, সিজারিয়ান ডেলিভারি কিংবা আগে মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সামাজিক কারণও বড় ভূমিকা রাখে। কন্যা সন্তান জন্মের পর অনেক পরিবারে মায়ের ওপর অবহেলা বা মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। ডা. কৃষ্ণা ঘোষ জানান, অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের জন্মের খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়ির কেউ মাকে দেখতে পর্যন্ত আসেন না। এই ধরনের আচরণ মায়ের মানসিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়।

প্যারেন্টিং কনসাল্ট্যান্ট পায়েল ঘোষ বলেন, স্বামী বা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, একা সব দায়িত্ব সামলানোর চাপ, পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টির অভাব—সব মিলিয়ে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে।

অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত বা অপরিকল্পিত মাতৃত্বও এই সমস্যার পেছনে ভূমিকা রাখে।

কতটা ভয়ংকর হতে পারে

চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। দেশে বিভিন্ন সময় এমন ঘটনার উদাহরণ রয়েছে, যেখানে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের পরিণতি মারাত্মক হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত হলে মায়ের মনে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে তিনি সন্তান সামলাতে অক্ষম। সেখান থেকেই চরম সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়ে।

লজ্জা আর ভয় এখনো বড় বাধা

যদিও দেশ-বিদেশের অনেক পরিচিত ব্যক্তি প্রকাশ্যে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, তবুও সমাজে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এখনো অনেক মা ভয় পান।

পায়েল ঘোষের মতে, ‘মা হওয়া মানেই আনন্দ’—এই ধারণার কারণে অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না যে একজন মা অবসাদে ভুগতে পারেন। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়।

কীভাবে মোকাবিলা সম্ভব

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটি দ্রুত শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মায়েদের নিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন। এখানে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. নিয়োগী বলেন, শিশুর যত্ন নেওয়ার সময় মায়ের পাশে কেউ থাকলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে। চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা জরুরি।

বর্তমানে ভারতে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সরকারি উদ্যোগে ‘টেলি মানস’ নামে একটি হেল্পলাইন চালু রয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং পাওয়া যায়। নতুন মায়েদের জন্য এটি কার্যকর সহায়তা হতে পারে।

ডা. কৃষ্ণা ঘোষ মনে করেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তার কথায়, সন্তান যেমন যত্ন চায়, তেমনই সদ্য মা হওয়া নারীরও সমান যত্ন, সহানুভূতি ও বোঝাপড়া দরকার। সেটি নিশ্চিত করা গেলে বহু জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..