শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
খাবারে বাটার বা মাখন ব্যবহার করা অনেকেরই পছন্দ। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষরা তেল পরিবর্তে মাখন ব্যবহার করতে ভালোবাসেন। তবে, বাজারে গিয়ে মাখনের নানা দাম দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। কেউ কেউ মাখনের পরিবর্তে দেখতে একেবারে মাখনের মতো একটি পণ্য কম দামে কেনেন, কিন্তু তারা জানেন না এটি আসলে মাখনের পরিবর্তে মার্জারিন। মার্জারিন মাখনের চেয়ে ভিন্ন, এবং এতে রয়েছে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি। চলুন, জানি কীভাবে মার্জারিন ও মাখনকে আলাদা করা যায়।
মাখন তৈরি হয় দুধ বা ক্রিম থেকে, যেখানে মার্জারিন তৈরি হয় উদ্ভিদ বা পশুর চর্বি দিয়ে।
মাখন তুলনামূলকভাবে বেশি সুগন্ধিযুক্ত।
মাখন মুখে দেয়ার পর খুবই সুস্বাদু লাগে, এবং এটি সহজেই মুখে মিশে একটি ভালো অনুভূতি দেয়। কিন্তু মার্জারিন বেশি চর্বিযুক্ত হওয়ায় এর স্বাদ ভালো হয় না এবং মুখে লেগে থাকে।
মাখন সাধারণত হালকা হলুদ রঙের হয়, তবে এটি প্রাণীর খাদ্যের উপর নির্ভর করে সাদা থেকে গাঢ় হলুদ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, মার্জারিনে এই রঙ আনতে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়, আর এর প্রকৃত রং সাদা।
মাখন প্রায় ৯৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় গলে যায় এবং সহজে পুড়ে যায়। মার্জারিন গলাতে কিছুটা বেশি তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়।
একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে এক চামচ মাখন ফেলে দিন এবং তারপর সেখানে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন মেশান। যদি মাখনের রং বেগুনি হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এতে স্টার্চ মেশানো হয়েছে। যদি রং না বদলায়, তবে তা খাঁটি মাখন।
মার্জারিনের কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি
মাখন দুধ থেকে তৈরি হয়, তবে মার্জারিন কেমিক্যাল মিশ্রিত উদ্ভিজ্জ তেল থেকে তৈরি। মার্জারিন সাধারণত ভোজ্যতেল থেকে উৎপন্ন হয়।
যখন ভোজ্যতেলকে বিশেষ রাসায়নিক উপায়ে জমাট করা হয়, তখন এটি ট্রান্স-ফ্যাটে রূপান্তরিত হয়। এই ট্রান্স-ফ্যাট রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, যা পরবর্তীতে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, এবং হৃদরোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। রান্নার সময় মার্জারিন একটি আলাদা স্বাদ দেয়, এবং এটি বাটারের তুলনায় কম দামে পাওয়া যায়। তবে, মার্জারিন নিয়মিত খাওয়ার আগে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি। অনেকসময় কেকের বাটার ক্রিমের বদলে মার্জারিন ব্যবহার করা হয়, যা নিয়মিত খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নাহিদা আহমেদ
পুষ্টিবিদ
সূত্র: প্রথম আলো