মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
অর্থনীতি বাঁচাতে জুলাই বিপ্লব এখন সময়ের দাবি!
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ কেবল একটি অর্থনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
বুধবার (২১ মে) পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি খাতে গুণগত মান রক্ষা করাটা এখন সময়ের দাবি। যেসব ভুলের কারণে আজ আমরা এখানে, সেগুলো যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে কঠোরভাবে নজর দিতে হবে এবং অতীতের থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। ভুল শিক্ষা গ্রহণ করলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। এই শঙ্কা সাধারণ মানুষ এমনকি নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও রয়েছে। তাই একটি আংশিকভাবে পুনর্গঠিত অর্থনীতি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকারের হাতে তুলে দেওয়া দরকার, যারা এটিকে আরও দূরদর্শীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। আমরা আশা করি, সেই দিকেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, আমরা সেগুলো অতিক্রম করতে সক্ষম হবো।
ড. মনসুর বলেন, অর্থনীতি এখন একটি দুর্ঘটনার শিকার। এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে হলে প্রয়োজন একটি সুসংগঠিত অর্থনৈতিক বিপ্লব, যার কেন্দ্রে থাকবে জুলাই বিপ্লব। এই বিপ্লবকে রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে সমর্থন না দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর না করলে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। আনুষ্ঠানিক খাতে অর্থনৈতিক লেনদেন বাড়াতে হবে, যাতে রাজস্ব আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে। এজন্য ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির যে ক্ষত তৈরি হয়েছে তা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু স্থায়ী সমাধান দিতে হলে রাজনৈতিক সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে বিপ্লবকে সুরক্ষা না দিলে অর্থনৈতিক বিপ্লব একা এগোতে পারবে না। ভবিষ্যতে যেন এমন অর্থনৈতিক বিপর্যয় আর না হয়, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে।
ব্যাংক খাত নিয়ে গভর্নর বলেন, আমাদের একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তির ওপর ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন করতে হবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সর্বোচ্চ মানের সেবা ও সমর্থন নিশ্চিত করব। তবে এ যাত্রা দীর্ঘ এবং সময়সাপেক্ষ। অনেক ভুল, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার ভেতর দিয়ে আমরা এসেছি। এখন ধীরে ধীরে সেই ব্যথাগুলো কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছি। ধৈর্য ধরতে হবে সবার, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।
অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার গুরুত্ব তুলে ধরে গভর্নর বলেন, নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ যখন ঋণ সুবিধার বড় অংশ পায়, তখন তা অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করে। এ ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমএফএস ও এজেন্ট ব্যাংকিং সাশ্রয়ী সুদে ঋণ দিলে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাধ্য হয়ে সুদের হার কমাবে।
তিনি বলেন, রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়নে নেমে এলেও এটি ৪০ বিলিয়নে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী মাসেই রিজার্ভ ২৭-৩০ বিলিয়নে উন্নীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে হবে। এজন্য সময় ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা—দুটিই জরুরি।