শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
সৎ মাকে মারধর, শাওন-হারুনদের ঘিরে রহস্য ঘনীভূত!
অনলাইন ডেস্ক
সৎ মা নিশি ইসলামের দায়েরকৃত মারাত্মক অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকার আদালত অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদসহ মোট ১২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহ বাদীর আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই চাঞ্চল্যকর আদেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞায় থাকা বাকি আসামিরা হলেন—সিটিটিসি ইউনিটের সাবেক এডিসি নাজমুল ইসলাম, শাওনের বাবা ইঞ্জিনিয়ার মো. আলী, বোন মাহিন আফরোজ শিঞ্জন, সেঁজুতি, শিঞ্জনের স্বামী সাব্বির, সুব্রত দাস, মাইনুল হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপপরিদর্শক শাহ আলম এবং মোখলেছুর রহমান মিল্টন।
এদের মধ্যে পুলিশ সদস্য সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও শাহ আলম জামিনে থাকলেও বাকিরা এখনো পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে ২২ এপ্রিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী পারভেজ সুমন গণমাধ্যমকে জানান, মামলার কার্যক্রম চলমান থাকায় যাতে আসামিরা দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে জন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছিল, যা আদালত মঞ্জুর করেছেন।
বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. পিন্টু এই নিষেধাজ্ঞার আবেদন দাখিল করেন। আগামী ১ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন জামিনে থাকা দুই পুলিশ সদস্য আদালতে হাজিরা দেন।
মামলার অভিযোগে উঠে আসে, গত ১৩ মার্চ নিশি ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
তার ভাষ্যমতে, ২১ ফেব্রুয়ারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করে নিশিকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, আলী এর আগেও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন এবং তার চার সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নেন এবং পরে প্রতারণার কথা স্বীকারও করেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি শাওনের বোন শিঞ্জন ও তার স্বামী সাব্বির এসে বিয়ের বিষয়টি চেপে যেতে চাপ প্রয়োগ করেন। এরপর ৪ মার্চ মো. আলী অসুস্থতার কথা বলে গুলশানের বাসায় ডাকেন। সেখানে পৌঁছে নিশি তার পূর্বের স্ত্রীকে দেখে প্রতারণার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হন। তখন অন্যান্য আসামিরা তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন।
৫ মার্চ শাওন, নাজমুলসহ আরও কয়েকজন সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিতে বাদীর বাসায় প্রবেশ করে। স্বাক্ষর না করায় শাওন তাকে বেধড়ক মারধর করেন, যার ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং আসামিরা পালিয়ে যায়।
২৪ এপ্রিল ডিবির অফিসে ডেকে নিয়ে তাকে ফের মারধর করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন শাওনসহ বাকিরাও। তখন ডিবি প্রধান হারুন বাড্ডা থানার ওসিকে নিশির বিরুদ্ধে মামলা নিতে নির্দেশ দেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে এনে নির্যাতন করা হয় এবং জোর করে মাদক ব্যবসায়ী সাজানো হয়।
এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এখন পুরো ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে তোলপাড় চলছে—একদিকে মিডিয়া ও পুলিশি প্রভাব, অন্যদিকে এক নারীর ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই।