রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
ইরানি গোয়েন্দাদের পেছনে এফবিআইয়ের বিশ্বব্যাপী চিরুনি অভিযান!
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তিন শীর্ষ ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তার পেছনে হন্যে হয়ে ছুটছে। তাদের ধরিয়ে দিতে তথ্য চেয়ে বড়সড় পুরস্কার ঘোষণার পাশাপাশি ছবিসহ মোস্ট ওয়ান্টেড পোস্টারও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছে এফবিআই। খবর গণমাধ্যমের।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত পোস্টারে বলা হয়, সাবেক এফবিআই এজেন্ট রবার্ট লেভিনসনের রহস্যজনক অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই তিন ইরানির বিরুদ্ধে। তাঁদের মধ্যে একজন বর্তমানে পাকিস্তানে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। যদিও লেভিনসনের মৃত্যুর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র অনুমান করছে।
ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস থেকে এফবিআই যেসব কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করেছে, তারা হলেন—রেজা আমিরি মোঘাদাম, তাগি দানেশভার ও গোলামহোসেন মোহাম্মাদনিয়া।
রেজা আমিরি মোঘাদাম বর্তমানে পাকিস্তানে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে আছেন। তাগি দানেশভার পরিচিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের কারণে। আর গোলামহোসেন মোহাম্মাদনিয়া ছিলেন আলবেনিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত। এফবিআই জানায়, তিনজনই ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের (MOIS) সক্রিয় সদস্য এবং মার্কিন নাগরিক অপহরণ ও ষড়যন্ত্রে জড়িত।
তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এবার নতুনভাবে যুক্ত করা হলো মার্কিন নাগরিকদের অপহরণ ও আটকের অভিযোগে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়।
এ বিষয়ে মার্কিন সিনেটর জিম রিশ এক্স প্ল্যাটফর্মে বলেন, রবার্ট লেভিনসন ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ, দেশপ্রেমিক আমেরিকান। ইরানের হাতে তার অপহরণ ও মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। এফবিআই কাজ করছে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে।
তিনি আরও লেখেন, এ নতুন পোস্টারগুলো লেভিনসনের অপহরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাচ্ছে। আমরা রবার্টকে ভুলিনি, ভুলবও না। অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করা হবে।
২০০৭ সালে কিশ দ্বীপে অননুমোদিত এক সিআইএ মিশনে নিখোঁজ হন লেভিনসন। ধারণা করা হয়, ইরানি হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়। যদিও তেহরান বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং তার আটক বা মৃত্যুর দায় স্বীকার করেনি।
২০২০ সালে লেভিনসনের পরিবার জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে তিনি ইরানি হেফাজতেই মারা গেছেন।
এফবিআই আরও জানায়, মোহাম্মদ বাসেরি ও আহমদ খাজাই নামের আরও দুই ইরানি গোয়েন্দার বিরুদ্ধে রয়েছে ২৫ মিলিয়ন ডলারের মাথাগোঁজ পুরস্কার। এদের বিরুদ্ধেও রয়েছে লেভিনসনের অপহরণ ও মৃত্যুর অভিযোগ।