রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
গুপ্তচর ধরা পড়লেই শেষ—জীবন নয়, সম্পদও যাবে!
অনলাইন ডেস্ক
ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি দেশটির সংসদে সংশোধিত একটি আইন পাস হয়েছে, যেখানে শত্রুরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর হয়ে গোয়েন্দা তৎপরতায় জড়িত থাকলে শুধুই মৃত্যুদণ্ড নয়, সেই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে, তাও সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে। অন্য কোনো শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণযোগ্য নয়।
এই বিল পাস হওয়ার পর থেকেই ইরানের অভ্যন্তরে কিছু আইনজীবী এর কড়া সমালোচনা করছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূতও প্রকাশ করেছেন গভীর উদ্বেগ।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবিসি বাংলা ও ইরান ফন্ট পেজের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পার্লামেন্টে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিলটি অনুমোদিত হয়। সংশোধিত আইনের মূল উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল হবে এমন রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীকে শত্রু ঘোষণা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি, মিনিস্ট্রি অব ইন্টেলিজেন্স শত্রুদের গোপন চক্র চিহ্নিত করার ক্ষমতা পাবে।
এই আইন অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে শত্রুরাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত। তবে নিরাপত্তা পরিষদের এখন ক্ষমতা রয়েছে নতুন করে অন্যান্য দেশ ও সংগঠনকেও শত্রুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার। আগের প্রস্তাবে এই বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল বলে গার্ডিয়ান কাউন্সিল সেটি সংসদে ফেরত পাঠিয়েছিল।
সংশোধিত আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, যারা শত্রুদের তথ্য বা ভিডিও পাঠিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায় বা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটায়, তাদের বিরুদ্ধে এখন কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এতে কারাদণ্ড ছাড়াও আজীবন সরকারি ও জনসেবা থেকে বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, বিমান হামলার পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরেও মোসাদের গুপ্তচররা হত্যায় অংশ নেয়। ধরা পড়া এজেন্টদের অনেকেই ছিলেন ইরানি নাগরিক। যুদ্ধবিরতির পর বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইআরজিসি। মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা হয়েছে, তবে এ নিয়ে কতজন আটক, কতজনের রায় কার্যকর এবং তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ইরান এখনও পুরোপুরি মুখ খোলেনি।