রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
সুরেই প্রতিশোধ! ইসরায়েল কাঁপাচ্ছে ‘বুম বুম তেল আবিব’
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলবিরোধী বার্তা নিয়ে ঝড় তুলেছে নতুন গান ‘বুম বুম তেল আবিব’। গত ২০ জুন প্রকাশিত গানটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে। গানটি মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৫৭৭ মিলিয়ন ভিউ অর্জন করে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি রাশিয়াতেও গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
অনেকেই এই গানের অডিওকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফুটেজ তৈরি করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তেহরান টাইমস।
গানটির একটি লাইনে বলা হয়— “তুমি শিশুদের মৃত্যু নিয়ে ঠাট্টা করেছিলে, এখন নিজেই কাঁপছো / আকাশজুড়ে আলো ছড়িয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, এখন বুঝছো ফিলিস্তিনিদের ভয় কেমন।” আশ্চর্যের বিষয়, এই প্রতিবাদী গানটি তৈরি করেছেন একজন মার্কিন শিল্পী।
‘বুম বুম তেল আবিব’ গানটি কেবল একটি সঙ্গীত নয়—এটি একটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক বার্তা। ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আবেগময় প্রতিক্রিয়া হিসেবে গানটি বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের মাঝে প্রতিধ্বনি তুলেছে।
গানটির কথায় উঠে এসেছে গাজায় নিহত নারী ও শিশুদের মৃতদেহ নিয়ে উপহাস করা বসতি স্থাপনকারীদের নির্মমতা। অনেকে বলছেন, গানটি গ্র্যামি মনোনয়নের যোগ্য। কেউ কেউ একে ‘ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি ধ্বংসাত্মক সঙ্গীত’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। বাজারে ইতোমধ্যে ‘বুম বুম তেল আবিব’ লেখা টি-শার্টও পাওয়া যাচ্ছে।
শিল্পী লুকাস গেজ গণমাধ্যমকে বলেন, গানটি তৈরি হয়েছে ন্যায়বিচার ও মানবিক অনুভব থেকে। মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে সঙ্গীতই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। আবেগের প্রতিক্রিয়া যদি সঠিক বার্তা বহন করে, সেটাই হতে পারে প্রতিষেধক।
তিনি বলেন, শত্রুরা সঙ্গীতকে তরুণদের মানসিকভাবে দূষিত করতে ব্যবহার করেছে। তাই সঙ্গীতকে সদর্থক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাও শিল্পীদের দায়িত্ব।
ইরানিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমেরিকানদের অনেকেই এখন বুঝতে পারছে, তাদের সরকার একটি পরজীবী শক্তির দখলে। সেই শক্তিই মিডিয়া ও প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে আমেরিকানদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না। মার্কিন সরকারের আগ্রাসী পদক্ষেপ কখনোই জনগণের সত্যিকারের ইচ্ছা ছিল না।
এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেন, ‘বুম বুম তেল আবিব’ এখন ইরানি জনসাধারণের কূটনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।