রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
২০ বছর পর বিদায়বেলার ডাক, নেতানিয়াহুকে চাপে ফেললেন বেনেট!
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবি করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। শনিবার দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এ প্রচারিত এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু টানা ২০ বছর ক্ষমতায়—এটা অনেক বেশি, এবং নিঃসন্দেহে অস্বাস্থ্যকর।’
বেনেট স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েলি সমাজে যে ভয়ংকর বিভক্তি দেখা দিয়েছে, তার পেছনে মূল দায় নেতানিয়াহুর। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং নেওয়া একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেশকে বিপজ্জনক মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
২০২১ সালে এই ডানপন্থি রাজনীতিক নেতানিয়াহুবিরোধী একটি বৈচিত্র্যময় জোট গঠন করে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সেই সরকার মাত্র এক বছর টিকে ছিল। এরপর আগাম নির্বাচনে নেতানিয়াহু কট্টরপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থনে ক্ষমতায় ফেরেন।
সাক্ষাৎকারে বেনেট সরাসরিই বলেন, “নেতানিয়াহুর সময় শেষ, তাকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে।” তবে তিনি নিজে নির্বাচনে ফিরবেন কি না, তা স্পষ্ট করে জানাননি।
বর্তমানে রাজনীতি থেকে সাময়িক বিরতিতে থাকা বেনেটের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ইসরায়েলজুড়ে জল্পনা চলছে। জরিপ বলছে, যদি তিনি ফেরেন, তাহলে আবারও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো জনপ্রিয়তা আছে তার। যদিও ২০২৬ সালের শেষভাগে দেশটিতে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন নির্ধারিত, কিন্তু আগাম নির্বাচনের রেওয়াজ আছে।
সাক্ষাৎকারে বেনেট দাবি করেন, ইরানে যেসব বোমা হামলা হয়েছে, তার পরিকল্পনা তার স্বল্পমেয়াদি সরকার আমলেই শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা ছিল একেবারে যথার্থ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
গাজা যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসরায়েলি সেনারা অসাধারণ লড়াই করছে, কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব কার্যত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে।” তিনি সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার সমালোচনা করে বলেন, “এই নীতি দিয়ে দেশ চালানো যায় না।”
বন্দি মুক্তি নিয়েও বেনেট জানান, একটি সুস্পষ্ট ও সাহসী চুক্তি দরকার, যেখানে গাজায় আটক সবাইকে মুক্ত করা যায়। হামাস ধ্বংসের কাজ পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
যদিও গণমাধ্যম বারবার জিজ্ঞাসা করলেও, বেনেট নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত জবাব দেননি।