শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
নরওয়ের ভবিষ্যৎ রাজার সৎপুত্রের বিরুদ্ধে ধর্ষণের রোমহর্ষক অভিযোগ!
অনলাইন ডেস্ক
নরওয়ের ভবিষ্যৎ রাজার সৎপুত্রের বিরুদ্ধে তিনটি ধর্ষণসহ ২৩টি জঘন্য অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া একাধিক নারীর ওপর নির্যাতন চালানোর প্রমাণও পাওয়া গেছে।
ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মেরিটের ছেলে এবং ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎপুত্র মারিয়াস বোর্গ হোইবি এখন নরওয়েতে তুমুল বিতর্কের কেন্দ্রে। শুক্রবার (২৭ জুন) পুলিশ জানায়, ঘটনাগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং নিন্দনীয়। হোইবির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের শক্ত প্রমাণ রয়েছে।
গত বছর আগস্ট, সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বরে তাকে তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১০ মাসের দীর্ঘ তদন্তের পর নরওয়েজিয়ান পুলিশ মামলাটি প্রসিকিউটরদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তারা অভিযোগ গঠন করবে কি না, তা শিগগিরই ঠিক হবে। পুলিশ অ্যাটর্নি আন্দ্রেয়াস ক্রুসজেউস্কি গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হোইবির আইনজীবী পেটার সেকুলিক বলেন, তার মক্কেল অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দোষ অস্বীকার করেছেন। বিশেষ করে যৌন নির্যাতন এবং সহিংসতার বিষয়ে তিনি নীরব।
২৮ বছর বয়সী এই যুবকের কোনো রাজকীয় পদবি বা সরকারি দায়িত্ব নেই। ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট এক হামলা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথম গ্রেপ্তার হওয়ার পরই একের পর এক নারী নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ হতে থাকে।
অসলো পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিপুল সংখ্যক সাক্ষীর জবানবন্দি, বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি এবং বিপুল ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করেছে। ২০২৪ সালের শরৎ এবং ২০২৫ সালের বসন্তে তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, এবং তিনি পুলিশকে সহায়তা করেছেন।
পুলিশ আরও জানায়, হোইবির বিরুদ্ধে চারটি যৌন আপত্তিকর আচরণ, একটির ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ধর্ষণ এবং দুটি শারীরিক আঘাতের অভিযোগ রয়েছে।
তবে তদন্তে পুলিশের পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, যৌন অপরাধের কয়েকটি মামলা প্রমাণের সীমাবদ্ধতার কারণে খারিজ করা হয়েছে, যা গাফিলতি নয়।
ক্রুসজেউস্কি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা নিয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না, তবে তা দুই অঙ্কের।
নরওয়ের রয়েল হাউস জানিয়েছে, বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, এ নিয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই।