রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
রুশ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে জ্বালানি বিপ্লবের পথে মালয়েশিয়া!
অনলাইন ডেস্ক
এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়ার পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটি জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তারা বহুমাত্রিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
শনিবার (২৮ জুন) মালয়েশিয়ান পত্রিকা দ্য স্টার–এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।
মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাদিল্লাহ ইউসুফ জানান, রাশিয়া প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, মানবসম্পদ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, আইনগত বিষয় এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্র—সব দিক থেকেই সহযোগিতা করতে চায়।
তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তিতে রাশিয়ার অভিজ্ঞতা মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি সম্প্রতি রাশিয়ায় চার দিনের সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার সঙ্গে শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচন।
ফাদিল্লাহ জানান, সফরে তিনি রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি ওভারচুকের সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি ও পরিচালন কাঠামো, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জনবল প্রশিক্ষণ ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, এই বৈঠক রোসাটম ও মালয়েশিয়ার প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর মধ্যে সরাসরি সংলাপের সুযোগ করে দিয়েছে। বিদ্যুৎ গ্রিড উন্নয়ন এবং আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড সহযোগিতায় এটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যে নীতিগতভাবে পারমাণবিক শক্তিকে দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে। কারণ দেশটি বর্তমানে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বেশি নির্ভরশীল, এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ফাদিল্লাহ আরও বলেন, “আমরা শক্তির বিকল্প উৎস চাই, তবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের আগে জনগণের সমর্থন ও ব্যাপক গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও এনজিওকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেন। আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জনসম্পৃক্ততা ছাড়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।