রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন
তেলআবিবে আগুন, পেজেশকিয়ানের ঐক্যের বার্তা কি যথেষ্ট?
অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে চরম এই সংকট কাটিয়ে উঠবেন—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। খবর গণমাধ্যমের।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, জনগণের প্রতি নিষ্ঠা ও সহমর্মিতা নিয়ে সরকারি সেবায় নিয়োজিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে।
পেজেশকিয়ান তার পোস্টে লেখেন, সেবা কার্যক্রমে আন্তরিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও ঐক্যের হাত বাড়িয়ে দিলে এই দুঃসময়ে বিজয় সম্ভব।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তাপ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। গত সাত দিনে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ইসরায়েল ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর একের পর এক আঘাত হানছে, আর ইরান পাল্টা আঘাত করছে ইসরায়েলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয়।
বৃহস্পতিবার ভোরের ইরানি হামলা ছিল সবচেয়ে ভয়াল। তেলআবিবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও একটি হাসপাতাল ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পুরো যুদ্ধের গতিপথ পাল্টে দিতে পারে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের সর্বশেষ আক্রমণ ছিল এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ধাক্কা। বৃহস্পতিবার সকালেই ১৩৭ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বুধবার রাতে এক ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন, ইরানের লাগাতার হামলায় ইসরায়েল ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছি। এ এক জাতীয় সংকট।” তার এই মন্তব্য উঠে এসেছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এবং আনাদোলু এজেন্সির বরাতে।
নেতানিয়াহু তার ভিডিও বিবৃতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “গতরাতসহ আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছি। আমাদের মধ্যে খুব উষ্ণ ও কার্যকর আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের জনগণ দৃঢ়, অভ্যন্তরীণ ফ্রন্ট অটুট এবং ইসরায়েল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। একইসঙ্গে গাজা উপত্যকায়ও যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে।” তার ভাষ্য, “আমরা লড়াই চালিয়ে যাব যতক্ষণ না সবাই ঘরে ফিরে আসে এবং হামাসের শেকড় উপড়ে ফেলা হয়।”