শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
ছোলা ছাড়া ইফতার যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমরা ইফতারে যাই রাখুন না কেন, ছোলা থাকেই। কিন্তু জানেন কি, কেন ইফতারে ছোলা খাওয়া হয়? যদি ভাবেন এটি শুধুই সুস্বাদু বলে রাখা হয়, তবে ভুল হবে। ছোলা এমন এক পুষ্টিকর খাদ্য, যা সারাদিনের রোজার ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক।
ছোলায় প্রচুর আমিষ থাকে, যা মাছ-মাংসের প্রায় সমতুল্য। এটি নানা উপায়ে খাওয়া যায়—ডাল, তরকারি, সেদ্ধ ভাজি কিংবা বেসন হিসেবে।
প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় থাকে প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ, ৬৪ গ্রাম শর্করা ও ৫ গ্রাম স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। ছোলার শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি ধীরে হজম হয় এবং রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত প্রবেশ করে না। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি ভালো খাদ্য।
এতে থাকা ফ্যাট মূলত পলিআনস্যাচুরেটেড, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। ছোলায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১০ মিলিগ্রাম লৌহ, ১৯০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম এবং বি-ভিটামিনসমূহ থাকে। প্রতিদিন ৫০ গ্রাম ছোলা খেলে মাছ-মাংসের ঘাটতি পূরণ হয়। তাই ইফতারে ছোলা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
ছোলার আরো অনেক গুণ আছে—
অস্থিরতা কমায়: ছোলার শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি রক্তে ধীরে শোষিত হয়, ফলে শরীর স্থির থাকে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: ছোলার শর্করা ধীরে হজম হয় ও রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত প্রবেশ করে না, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: এতে থাকা খাদ্য আঁশ হজম হয় না, বরং খাদ্যনালি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
চর্বি কমায়: ছোলার আঁশ রক্তের অতিরিক্ত চর্বি হ্রাস করে, যা শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরের প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক ও আমিষের ঘাটতি পূরণ হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
মেরুদণ্ডের ব্যথা উপশম: ছোলায় থাকা ভিটামিন বি স্নায়ুর দুর্বলতা কমায় ও মেরুদণ্ডের ব্যথা উপশমে সহায়ক।
এছাড়া, এটি ত্বকের জন্যও ভালো। নিয়মিত ছোলা খেলে শরীর সতেজ থাকে এবং সুস্থতা বজায় থাকে। তাই রমজানে ইফতারে ছোলা রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন!