শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
আপনার মন ভাঙলে শুধু চোখে জল নয়, হার্টও বিপদে পড়তে পারে!
অনলাইন ডেস্ক
মানুষের চাওয়া-পাওয়ার তালিকায় এমন কিছু থাকে, যা না পেলে শুধু মন খারাপই হয় না—মন যেন ধসে পড়ে। এমন এক মানসিক অবস্থা আছে, যার প্রভাব পড়ে আপনার হৃৎপিণ্ডেও! চোখে দেখা যায় না ঠিকই, তবে যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ে শরীরজুড়ে। এ অবস্থারই নাম ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’।
হঠাৎ করে মন ভেঙে যাওয়া—প্রিয়জনের মৃত্যু, সম্পর্কের বিচ্ছেদ, বড় কোনো ধাক্কা কিংবা বিশাল হতাশা—এই মানসিক আঘাতেই কেউ কেউ হয়ে পড়েন অসহায়, বিষণ্ন, একা। তবে কিছু ক্ষেত্রে এ মানসিক ট্রমা এতটাই গভীর হয় যে, তার শারীরিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়। বিশেষত হৃদযন্ত্রে! এই অবস্থায় হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘স্ট্রেস কার্ডিওমায়োপ্যাথি’, জনপ্রিয়ভাবে পরিচিত ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’ নামে।
ঢাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ হোসেন খান জানান, হঠাৎ মানসিক ধাক্কায় শরীরে অ্যাড্রেনালিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে হৃৎপিণ্ডের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে দেখা দেয় বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম বা মাথা ঘোরা।
শুনতে হার্ট অ্যাটাকের মতো মনে হলেও এটি হার্ট অ্যাটাক নয়। পার্থক্য হলো—হার্ট অ্যাটাকে রক্তনালীতে ব্লকেজ থাকে, কিন্তু ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোমে নেই। আবার এটা বেশিরভাগ সময়ই ওষুধে ভালো হয়ে যায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে।
তবে এই লক্ষণগুলো অবহেলা করা একেবারেই ঠিক নয়। কেননা, ব্রোকেন হার্ট আর হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেকটা একই রকম। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রাসঙ্গিক পরীক্ষাই নিশ্চিত করে সমস্যাটা আসলে কী।
এ রোগ হতে পারে যেকোনো বয়সে, তবে বেশি দেখা যায় পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের মধ্যে। মানসিক চাপ, বিষণ্নতা বা অতিরিক্ত আবেগ এই রোগের বড় ট্রিগার। এমনকি কোনো বড় অপারেশনের পরেও দেখা দিতে পারে।
সমাধান কী?
শরীরচর্চা, মেডিটেশন, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন, পজিটিভ চিন্তা ও জীবনকে সহজভাবে নেওয়া—এই অভ্যাসগুলোই আপনাকে বাঁচাতে পারে ভাঙা মনের ক্ষতিকর ছায়া থেকে। মনে রাখবেন, সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, নিজের যত্নটা কিন্তু সম্পূর্ণ আপনার হাতেই!