শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন
মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরের বাজারে অর্ধেক দামে সবজি, তারপরও কেন তিনগুণ দাম দিতে হচ্ছে মনপুরাবাসীকে?
বনি আমিন, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি।
ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়ন এর পিছন গলিতে গড়ে ওঠেছে নাজিম ও আবদুল হক নামে বৃহৎ বড় কাঁচা বাজার। এ বাজার থেকে চরফ্যাশন পৌরসভার দূরত্ব মাত্র ২৫.৬ কিলোমিটার। অথচ ওই বাজার থেকে সবজি হাতবদলে দুই-তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট বাজারে। দূরত্ব খুব বেশি না হলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
শুক্রবার ওই পাইকারী কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দেশি কাঁচা ঝাল মরিচ প্রতিকেজি ৮০ টাকা, বেগুন-৪০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, লাউ ১৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ১৪ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, শসা ২০টাকা, ঢেঁড়শ ২৫ টাকা, করোলা ৪০ টাকা, দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ বাজার থেকে প্রতিদিন মনপুরার, হাজীরহাট রামনেওয়াজ ফকিরহাট চৌধুরীবাজার, বাংলাবাজার, ও কোড়ালিয়াসহ মনপুরার বিভিন্ন ইউনিয়ন এ প্রায় ১০ ট্রাক শাক-সবজি সরবারহ হয়।
পাইকারি এই কাঁচা বাজার থেকে মাত্র ২৫.৬ কিলোমিটার দুরে মনপুরা উপজেলা। মনপুরা উপজেলার (হাজীরহাট বাজার)-এ একই দিন বিকেলে দেশি কাঁচা ঝাল মরিচ ১২০ টাকা দরে, বেগুন-৭० টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, কুশি ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, করোলা ১০০ টাকা, লেবু (৪টি) ৫০, টমেটো ৬০, কলা ৪০, পুইশাক কেজি ৪০, গাজর ১৫০, কুমড়ার জালি (প্রতি কেজি) ৪০ টাকা ও শিম প্রতিকেজি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু মনপুরা উপজেলার (হাজীরহাট বাজার)-না। বাংলা বাজার, মাষ্টার হাট, চৌধুরী বাজার, ফকির হাট বাজারসহ ৭-৮টি বাজার ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়।
হাজীরহাট বাজারে সবজি কিনতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চরযতিন এলাকার বাসিন্দা শরিফ। তিনি বলেন, সবকিছুর দাম আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অথচ পাইকারি বাজারে এসব সবজির দাম ২ থেকে ৩ গুণ কম। এতে করে কৃষককে ঠকানো হচ্ছে। মাঝখান থেকে সিন্ডিকেট করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে মনপুরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটরিং করার দাবি জানাচ্ছি।
প্রান্তিক বাজারে খুচরা সবজি বিক্রেতা ফরিদ উদ্দিন জানান, এবার সবজি উৎপাদন ও সরবরাহ কম। এছাড়া দোকানঘর ভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি রয়েছে। সেকারণেই মূলত দাম একটু বেশি। নাজিম এর ভাই মহিউদ্দিন কাঁচা বাজারের খুচরা
বিক্রেতা বলেন, কৃষকেরা তাদের সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। সেখান থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা সবজি সংগ্রহ করেন। পরে পাইকাররা সেই সবজি বিভিন্ন হাটবাজারের আড়তে বিক্রি করেন। আড়ৎ থেকে খুচরা বিক্রেতারা তা কিনে নিয়ে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। এভাবে কয়েক দফা হাতবদলের কারণে সবজির দাম দুই-তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে। তবে চরফ্যাশন এর বড় পাইকারি কাঁচা বাজার থেকে খুলনা শহরে খুচরা বাজারে একবার হাতবদলে দুই-তিন গুণ দামে বিক্রি অস্বাভাবিক বলে তারা মনে করেন।
মনপুরায় সবজি উৎপাদনে জড়িত কৃষকেরা বলছেন, জ্বালানি তেল, সার, বীজ, কীটনাশকসহ সবকিছুর দাম বাড়ায় সবজি উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। খেত থেকে সবজি তুলে পাইকারি বাজারে বিক্রি করে তারা যে দাম পাচ্ছেন, ভাতে কোনোরকমে উৎপাদন খরচ উঠছে। আর খুচরা বাজারে সেই সবজি দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা করছে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট।
মনপুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কালাম উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি না থাকার কারনে জমি শুকিয়ে গেছে এই কারনে কৃষক সবজি চাষ করতেছেনা এখন। তাছাড়া বোড় ধানের মৌসুম চলতেছে এখন তাই অনেক কৃষক সবজি চাষ কম করছে, এবং কৃষক এখন বৃষ্টি না থাকার করনে সবজি চাষ করতেছে না তাই সবজির দাম একটু বেশি কিন্তু এখন কৃষকেরা সবজি চাষের বিজতলায় বিজ রোপণ শুরু করেছে গাছ বড় হয়ে সবজি ধরা শুরু করলে সবজির দাম কমবে বলে মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা। তবে সবচেয়ে বেশি সবজির আবাদ হয় শীতকালে