রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
সাদিকা জাহান
রমজানে ইফতারে খেজুর একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেকেই সাহরিতেও এই সুস্বাদু ফলটি খেয়ে থাকেন। খেজুর শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছে এটি একটি সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। প্রক্রিয়াজাত চিনি বা মিষ্টির বিকল্প হিসেবে খেজুর বেশ জনপ্রিয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি প্রজাতির খেজুর পাওয়া যায়।
রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর বাজারজাত করে থাকেন। তাই খেজুর কেনার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। খেজুরে কৃত্রিম মিষ্টি বা অন্য কোনো রাসায়নিক উপাদান মেশানো আছে কিনা, তা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো খেজুর চেনার সহজ উপায়:
১. চেহারা: ভালো মানের খেজুরের ত্বক কিছুটা কুঁচকানো ও শুকনো হবে। এটি খুব বেশি চকচকে বা মসৃণ হওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত চকচকে দেখালে ধারণা করা যায় যে এতে তেল বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে।
২. গঠন: খেজুর বেশি নরম বা শক্ত হওয়া উচিত নয়। বোঁটা না থাকলে পোকামাকড়ের সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি থাকে।
৩. স্বাদ: স্বাভাবিক খেজুরের মিষ্টতা সহনীয় হয়। অত্যধিক মিষ্টি খেজুরে কৃত্রিম চিনি বা ক্যারামেল মেশানোর সম্ভাবনা থাকে।
৪. গন্ধ: টক বা গাঁজানো গন্ধ থাকলে তা নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধরে নিতে পারেন। খোলা খেজুরের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
৫. ভেতরের রং: ভালো খেজুর চিরে দেখলে হালকা বাদামি বা সাদাটে রং থাকবে। কালচে বা অস্বাভাবিক রং থাকলে সেটি নষ্ট হতে পারে।
খেজুর সংরক্ষণের জন্য ঠান্ডা ও শুকনো স্থানে রাখা উচিত। ফ্রিজে রাখলে এটি দীর্ঘদিন ভালো থাকে। বাজারে নানা ধরনের খেজুর পাওয়া যায়, যেমন আজওয়া, মরিয়ম, সাফাওয়ি ইত্যাদি। সৌদি আরব, ইরান, মিশর, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে খেজুরের উৎপাদন হয়। বাংলাদেশে আজওয়া ও মরিয়ম খেজুরের চাহিদা বেশি।
রমজান মাসে স্বাস্থ্যকর ও বিশুদ্ধ খেজুর কিনতে সতর্ক থাকুন এবং কেনার সময় প্যাকেটজাত খেজুরের মেয়াদ যাচাই করুন। খেজুরের পুষ্টিগুণ এবং এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে কিছুটা সচেতন থাকলেই সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব।