বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও এর অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও উত্তপ্ত পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর অবশেষে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় উত্তেজনার রেশ কাটেনি। রাত ৩টায় ঢাকা কলেজের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের ওপর পুলিশের হামলা এবং ঢাবি প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের অশোভন আচরণের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ ছাড়া সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
এর আগে রোববার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পাঁচ দফা দাবি নিয়ে প্রো-ভিসির সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে তিনি “উদ্ধত” আচরণ করেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৬টায় সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করেন তারা এবং প্রো-ভিসিকে ক্ষমা চাইতে রাত ১১টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন।
সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা প্রো-ভিসির বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন এবং মিছিলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হন। তাদের এ ঘোষণা শুনে ঢাবির শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত সংলগ্ন মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণে প্রতিরোধে অবস্থান নেন।
রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজ থেকে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণে পৌঁছান। ঢাবি শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে লাঠি হাতে প্রস্তুত ছিলেন। মুহূর্তেই শুরু হয় ঢিল ছোড়াছুড়ি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। পরে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সমস্যা এবং ভর্তির আসনসংখ্যা কমানোর বিষয়ে প্রো-ভিসির সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে তিনি তাঁদের “অপমানজনক ভাষায়” কথা বলেন এবং রুম থেকে বের করে দেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রো-ভিসি বলেছেন, “সাত কলেজের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আব্দুর রহমান জানান, ২১ দিন আগে দেওয়া স্মারকলিপি তিনি পড়েননি এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তিনি “চেনেন না।” এসব কারণেই আন্দোলন জোরদার হয়।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি:
১. ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি বাতিল।
২. শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতার বাইরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি নয়।
৩. শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত।
৪. ভর্তি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্ক যুক্ত করা।
৫. ভর্তি ফি জমার স্বচ্ছতার জন্য মন্ত্রণালয়-সমন্বিত বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্টে ফি জমা রাখা।
শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবিগুলো পূরণ না হলে আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করবে।