রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিশুর মুখে জোর করে নয়, রঙ আর খেলায় ফল খাওয়ান আনন্দে!
অনলাইন ডেস্ক
আজকালকার শিশুরা খেলাধুলা আর পর্দার দুনিয়ায় এতটাই ব্যস্ত যে ফলমূলের দিকে নজরই যায় না। অথচ বাড়ন্ত শরীরের জন্য ফলের পুষ্টি অনিবার্য। কী করবেন? জোর করে খাওয়াতে গেলে উল্টো বিরক্তি! তার চেয়ে বরং ফল পরিবেশনে আনুন রঙ, গন্ধ আর আকৃতির ছোট্ট চমক—তাতেই শিশুরা আগ্রহী হয়ে উঠবে!
রন্ধনবিশেষজ্ঞ দিল আফরোজ জানালেন, “প্রতিদিন একইভাবে কাটা আপেল বা কলা বোরিং লাগতেই পারে। তাই ফল পরিবেশনেও চাই একটু গল্প, একটু খেলা।”
মাঝেমধ্যে ফলগুলো কিউব নয়, বরং ফ্রেঞ্চফ্রাইয়ের মতো লম্বা করে কেটে দিন। কিংবা ব্যবহার করুন কুকি কাটার—তারকা, হৃদয় বা ফুলের আকারে কেটে দিন আপেল বা পেয়ারা। একটা আপেলের গায়ে দুটো লবঙ্গ গেঁথে দিন চোখ বানিয়ে, নিচে এক ফালি লাল চেরি দিলেই মুখ! ফলই তখন শিশুর খেলার সাথী।
বড় কোনো ফল যেমন তরমুজ বা পেঁপে কেটে বাটি বানিয়ে তাতে ভরুন নানা রঙের ফলের টুকরা। একপাশে সামান্য হুইপ ক্রিম বা চকলেট সিরাপ ছড়িয়ে দিন—দেখবেন, চোখ বন্ধ করে খাচ্ছে বাচ্চা।
রঙের খেলা দিয়েও ফল খাওয়ানো যায় মজাদার করে। চার-পাঁচ রঙের ফল কেটে সাজিয়ে দিন ছোট্ট রংধনু। বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করুন—“রংধনুর কোন রংটা মিসিং?” গল্পের ছলে নতুন নতুন ফল চিনে নেবে ও।
শাশলিক কাঠি বা টুথপিক ব্যবহার করে গেঁথে দিন বিভিন্ন ফলের টুকরা। আইসক্রিমের কাঠিতে তিন কোনা করে কাটা তরমুজ বসালেই হয়ে যাবে ‘ফল পপ’। আইসক্রিম কনেও কাজে লাগাতে পারেন পরিবেশনের জন্য—ফলের নতুন অবয়ব শিশুর নজর কাড়বেই।
রন্ধনশিল্পী সেলিনা আক্তার বলছেন, “ফল দিয়ে তৈরি মজার পানীয় যেমন মিল্কশেক, মকটেল বা ফ্রুট ককটেল গরমে শিশুর পুষ্টি ও পানির চাহিদা মেটায়।”
সৃজনশীলতায় একটু নজর দিন, বাচ্চা আর ফলের দূরত্ব আপনিই ঘুচিয়ে দিতে পারবেন। ফল হয়ে উঠুক তাদের খেলার বন্ধু, গল্পের অংশ আর সুস্বাদু পছন্দ!