শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন
শান্তি দরজায় কড়া নাড়ছে, কিন্তু ইসরায়েল খুলবে তো?
অনলাইন ডেস্ক
গাজায় একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। প্রতিদিনই ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা অতিক্রম করছে নতুন মাত্রা। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনায় কিছুটা গতি এসেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনার ভবিষ্যৎ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল ৬০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই সময়কালে আলোচনা চালিয়ে ২১ মাসের যুদ্ধ শেষ করতে চান তিনি। আজ সোমবার (৭ জুলাই) নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এদিকে, কিছু সংশোধনীসহ প্রস্তাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে হামাসও। যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সেই সংশোধনগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তাতেও আলোচনা থেমে নেই—কাতারে মুখোমুখি হচ্ছে উভয় পক্ষ।
হামাসের তিন প্রধান শর্ত
১. বিতর্কিত GHF বন্ধ: গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF) বিতরণকালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৪৩ ফিলিস্তিনি। অভিযোগ, সেনারা পরিকল্পিতভাবে খাদ্য সংগ্রহ করতে আসা মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
২. সেনা প্রত্যাহার: হামাস চায়, ইসরায়েল যেন যুদ্ধবিরতির আগে যেসব এলাকায় ছিল, সেখানেই ফিরে যায়। বর্তমানে ‘নেতসারিম’ ও ‘মোরাগ করিডর’ দিয়ে গাজাকে ভাগ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে ইসরায়েল।
৩. স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা: যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের তরফ থেকে গ্যারান্টি চাইছে হামাস, যাতে যুদ্ধ থামার পর আবার হামলা শুরু না করে ইসরায়েল।
ট্রাম্পের প্রস্তাব কী বলছে?
মার্কিন পরিকল্পনার মূল ফোকাস বন্দি বিনিময়। প্রাথমিকভাবে হামাস ১০ জন জীবিত ও ১৮ জন মৃত ইসরায়েলিকে ফেরত দেবে। তার বিনিময়ে মুক্তি পাবে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দি। এরপর, জাতিসংঘ ও রেডক্রস ত্রাণ সরবরাহ করবে এবং ইসরায়েলি বাহিনী ধাপে ধাপে পিছু হটবে।
তবে নেতানিয়াহু বলছেন, যতক্ষণ না সব বন্দিকে মুক্ত করা হচ্ছে এবং হামাস পুরোপুরি ধ্বংস হচ্ছে, ততক্ষণ যুদ্ধ চলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হামাস ধ্বংস করা অবাস্তব লক্ষ্য। বরং নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক বাঁচনোর পথ হিসেবেই যুদ্ধের আগুনে ঘি দিচ্ছেন।
এদিকে দুর্নীতির মামলায় জর্জরিত নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী জোটসঙ্গীরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। ইতামার বেন গভির ও স্মোত্রিচ তো গাজায় ত্রাণই বন্ধ রাখতে চান।
বর্তমানে প্রতিদিন গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩৮ জন। পশ্চিম তীরেও দমননীতি অব্যাহত। বসতি উচ্ছেদ, চলাচলে বাধা এবং সরাসরি ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ট্রাম্প চুক্তির আশায় বুক বাঁধছেন, ফিলিস্তিনিরা মরতে মরতে শান্তির আশায় ক্লান্ত। কিন্তু অনেক বিশ্লেষকের চোখে মূল সমস্যা ইসরায়েল ও নেতানিয়াহুর সত্যিকারের সদিচ্ছার অভাব।
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদনান হায়াজনে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই চুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’
তার মতে, ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য গাজাকে জনমানবশূন্য করে তোলা। আর ফিলিস্তিনিরা এখন তিন বিপর্যয়ের মাঝে: অনাহারে মৃত্যু, গুলিতে মৃত্যু, অথবা দেশত্যাগ। তবে ইতিহাস বলছে, ফিলিস্তিনিরা মাটি ছাড়ে না।