রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
গুপ্তচর না বীর? কানিকে ঘিরে রহস্য আরও ঘন!
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের প্রভাবশালী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি নিহত সহকর্মীদের জানাজায় তাঁর উপস্থিতি দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র গুঞ্জন—তিনিই নাকি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের গুপ্তচর!
এমন সন্দেহের বাতাস নতুন নয়। এর আগেও কমান্ডার কানির বিরুদ্ধে ঠিক একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তখন ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করেছিল, কানিকে গোপনে বন্দি করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তথ্য বের করার চেষ্টা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
গত বছরের অক্টোবরেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কানি নিহত হয়েছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তখনও সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি জনসমক্ষে হাজির হন।
এবার ১৩ জুন, ইরানে ইসরায়েলের এক ভয়াবহ হামলায় যেসব সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হন, সেই তালিকায়ও কানির নাম ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু অবাক করে দিয়ে তিনি হাজির হন নিহত সহযোদ্ধাদের জানাজায়। এ দৃশ্য নতুন করে আগুন লাগায় ষড়যন্ত্র তত্ত্বে।
এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের ছড়িয়ে পড়ে, কানি নাকি মোসাদের ‘ডিপ-কভার’ এজেন্ট। এ গুজব এতটাই বিস্তৃত হয় যে, গত সোমবার (৩০ জুন) ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাদের ফার্সি ভাষার অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্ট করে কানি সম্পর্কে অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হয়।
পোস্টে তারা জানায়, “ইসমাইল কানি আমাদের গুপ্তচর নন।” মোসাদ দাবি করে, ইসরায়েলি হামলা থেকে কানি বারবার বেঁচে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা গণমাধ্যমেই এসব তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে।
কিন্তু তাতেই সব থেমে থাকেনি। নতুন বিস্ময় তৈরি করে মোসাদ জানায়, ইরানে সাম্প্রতিক সংঘাতে আহত সাধারণ নাগরিকদের চিকিৎসা সহায়তা দেবে তারা! এ-সংক্রান্ত ঘোষণা আসে এক্সে প্রকাশিত একটি ফার্সি পোস্টে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাটি বলেছে, “যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখন প্রকাশ পাচ্ছে। ইরানি শাসকগোষ্ঠী যেখানে জনগণের বদলে উচ্চ শিক্ষাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, সেখানে আমরা সাধারণ নাগরিকদের পাশে দাঁড়াতে চাই।”
বিবৃতিতে জানানো হয়, মোসাদ আহতদের চিকিৎসায় প্রাথমিক সেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সহায়তা ইত্যাদি দেবে।
তবে এই সেবার প্রকৃত রূপ কেমন হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে ইরানিদের হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা সিগন্যালের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, মোসাদের এই পদক্ষেপ শুধুই মানবিক নয়, বরং এটি মনস্তাত্ত্বিক এক যুদ্ধের অংশ, যার লক্ষ্য ইরানের জনগণকে সরকারবিরোধী মনোভাবের দিকে ঠেলে দেওয়া।