শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন
চুরি করা গমে বাংলাদেশের অজান্তে ঝড় তুললো ইউক্রেন!
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের একাধিক সত্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অনুরোধ করতে যাচ্ছে ইউক্রেন। অভিযোগ, রাশিয়ার অধিকৃত এলাকা থেকে ‘লুট করা গম’ বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে। কয়েকবার সতর্ক করেও বাংলাদেশের নীরবতায় এই কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে দেশটি।
শুক্রবার (২৭ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়ার দখলকৃত এলাকা থেকে লুট করা গম বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এ নিয়ে একাধিকবার সতর্কবার্তা দিলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ জানাবে ইউক্রেন। দক্ষিণ এশিয়ায় নিযুক্ত একজন শীর্ষ ইউক্রেনীয় কূটনীতিক এ কথা নিশ্চিত করেছেন গণমাধ্যম-কে।
ইউক্রেনের ভাষ্য, ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ার কব্জায় থাকা দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি এলাকা থেকে গম নিয়ে তা রাশিয়া নিজেদের গমের সঙ্গে মিশিয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে। এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নামও আছে। রাশিয়ার দাবি, পূর্বে ইউক্রেনের অংশ বিবেচিত এলাকা এখন রাশিয়ার অঙ্গ এবং সেসব থেকে গম সংগ্রহে কোনো অন্যায় নেই।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নথি থেকে জানা গেছে, নয়াদিল্লিতে ইউক্রেন দূতাবাস এ বছর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকটি চিঠি পাঠায়। সেখানে রাশিয়ার কাভকাজ বন্দর থেকে রপ্তানিকৃত দেড় লাখ টনের বেশি লুট করা গম প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
ভারতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সান্ডার পোলিশচুক জানান, ঢাকা এই চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো দখলকৃত এলাকা থেকে গম নিয়ে সেটি রুশ গমের সঙ্গে মিশিয়ে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। ফলে কিয়েভ বিষয়টি এবার উচ্চপর্যায়ে তুলতে চায়।
পোলিশচুক বলেন, এটি স্পষ্টতই একটি অপরাধ। আমরা আমাদের তদন্তের ফলাফল ইইউসহ অন্যান্য মিত্রদের সাথে ভাগ করব এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে তাদের অনুরোধ করব।
রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি।