শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
রাজনৈতিক অস্থিরতায় নকল ওষুধে বেড়েছে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি!
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে পুনরায় জোরদার হয়েছে ভেজাল ও নকল ওষুধের ব্যবসা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও গ্রামীণ এলাকায় নকল ওষুধের বিস্তার ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, যা রোগী ও চিকিৎসক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সরব হওয়া শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নকল ও ভেজাল ওষুধের প্রবণতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক চিকিৎসক নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন, কেউ কেউ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে ‘অ্যালবুমিন ইনজেকশন’ নামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধটির নকল সংস্করণ বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসক সমাজে উদ্বেগের মাত্রা বেড়ে গেছে।
অ্যালবুমিন ইনজেকশন বড় ধরনের অস্ত্রোপচার বা গুরুতর দুর্ঘটনার পর রক্তে প্লাজমার ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে ব্যবহৃত হয়। বছরখানেক আগে সিলেটের এক রোগীর মৃত্যুর পর এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এই ইনজেকশন প্রয়োগের পর রোগীদের মধ্যে জটিলতা দেখা যাওয়ায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল মেলায়, ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি অ্যালবুমিন ইঞ্জেকশন নকল।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নকল অ্যালবুমিন ইঞ্জেকশনগুলো দেখতে আসলটির সঙ্গে এতটাই মিল যে, খালি চোখে পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব। ফলে, ডাক্তার ও ফার্মাসিস্টদের পক্ষে তাৎক্ষণিক আসল-নকল পার্থক্য করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. চঞ্চল কুমার ঘোষ বলেন, “বাজারে নকল অ্যালবুমিনের প্রবলতা এত বেশি যে, আমরা প্রায়ই এটির ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছি। সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবে? আমরা চিকিৎসকরাই অনেক সময় বুঝতে পারি না কোনটা আসল আর কোনটা নকল। দেখতে একই রকম। তাই আমরা পারলে ব্যবহার এড়িয়ে চলি।”
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ঢাকাতেই প্রায় ১০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ নকল, ভেজাল অথবা নিম্নমানের। রাজধানীর বাইরে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক জেলায় এমনও দেখা গেছে, নকল ট্যাবলেট তৈরি করতে আটা-ময়দা ব্যবহার হচ্ছে।
ফলে এই ধরনের ওষুধের ব্যবহারে রোগীর সুস্থতার পরিবর্তে জটিলতা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই গবেষণার ফলাফল স্বাস্থ্য খাতের গুণগত মান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।
উল্লেখ্য, নকল ও ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ‘ওষুধ ও কসমেটিক আইন’ পাস করেছে, যেখানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই আইনে কাউকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়নি।