শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
মানবাধিকারের আড়ালে জমি দখল! তামজিদের মুখোশ উন্মোচন
বনি আমিন, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি
ভূমি আইন অমান্য করে মনপুরা উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে অসহায় পরিবারের শতবর্ষের পৈত্রিক জমি গায়ের জোরে দখল করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী যুবক তামজিদ হোসেন সাদ্দামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, “দলিল যার জমি তার” আইনকে তুচ্ছ করে এওয়াজ বদলকৃত এবং বহু প্রজন্মের ভোগদখলীয় জমিতে চোখ পড়েছে ওই প্রভাবশালীর।
ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, কাউয়ারটেক গ্রামের মৃত রাজামিয়ার ছেলে মো. মাহবুবুল হক জে-এল নং ৫৯, কুলাগাজী এসএ নং ৩৪৯৭ খতিয়ানভুক্ত এসএ ৪৫৪ ও ২৪১ দাগে এওয়াজ, দলিল ও পৈত্রিক সূত্রে ৩৮ শতাংশ জমির বৈধ মালিক। দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসলেও সম্প্রতি এলাকার প্রভাবশালী তামজিদ নানা ফন্দি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাহবুবুল হক জানান, বাগানবাড়ির পাশে সপন চন্দ্র দাসের ৪ শতাংশ ফসলি জমি ছিল। গাছের কারণে ফসল নষ্ট হওয়ায় দুজনের সম্মতিতে এওয়াজ বদল হয়। কিন্তু সেই সুযোগে তামজিদ হঠাৎ করে টিনের ঘর তোলে। স্থানীয় লোকমান মেম্বার ও রাজিব চৌধুরীর হস্তক্ষেপে একবার বাধা দেওয়া হলেও তামজিদ সেটিকে উপেক্ষা করে পুনরায় দখলের চেষ্টা চালায়।
তিনি আরও বলেন, তামজিদ হোসেন সাদ্দাম মনপুরা ইসলামি ব্যাংক হাজীরহাট শাখার একজন অফিসার এবং ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের সদস্য। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার শালিশ হয়েছে, কিন্তু কোনো শালিশি রায়কেই সে মানেনি। ২৬ তারিখ আবারো জোরপূর্বক মাটি পালানোর চেষ্টা চালায়, বাধা দিলে তামজিদ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় পরিবারের সবাই আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান মাহবুবুল।
তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন করে বলেন, তার এওয়াজবদলকৃত, দলিলকৃত ও পৈত্রিক সম্পত্তি দখলমুক্ত রাখতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
অভিযুক্ত তামজিদ হোসেন সাদ্দামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় মেম্বার লোকমান মেম্বার জানান, “সালিশি সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরও তামজিদ তা অমান্য করে দখল করেছেন। বর্তমানে এ নিয়ে মনপুরা জুডিশিয়াল আদালতে ফৌজদারি মামলা চলমান।”