1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
মনপুরায় নালা দখল, পানিবন্দী কয়েকটি পরিবার - Janatar Jagoron

মনপুরায় নালা দখল, পানিবন্দী কয়েকটি পরিবার

  • সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫
  • ২৯৫ বার পঠিত
দখলদারির শিকার৭ পরিবার

প্রতিহিংসার শিকার নিরীহ মানুষ, নালা হলো অস্ত্র!

বনি আমিন, মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি

মনপুরা উপজেলার ২ নম্বর হাজীরহাট ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর যতিন গ্রামটি যেন অবহেলার এক দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে চলেছে। এখানে অবস্থিত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কটির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কথা ছিল একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক পানি নিষ্কাশনের নালা। কিন্তু বাস্তবতা হলো—গত ২৫ বছরেও সেই নালার মুখ দেখেনি এ গ্রামের মানুষ।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, প্রথম দিকে একটি অপরিকল্পিত ও অস্থায়ী নালা থাকলেও বিগত ২০ বছরেও তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দিন দিন দখল, দূষণ আর ঘরবাড়ি নির্মাণের ভিড়ে সেই নালা হারিয়ে গেছে। ফলে কয়েকদিন বৃষ্টি হলেই চর যতিনসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। উপজেলা পরিষদ চত্বর, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ, এলাকার প্রধান সড়ক ও শত শত বাড়িঘর পানিতে ডুবে যায়। ফলে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রতি বছর বর্ষাকালে বিভিন্ন জায়গায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে জোরপূর্বক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। অথচ একটি পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলত সহজেই।

এ অবস্থার মধ্যেই সামনে আসে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য—গ্রামের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথটি গত দুই বছর ধরে বন্ধ করে রেখেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মহিব্বুল্যাহ মাওলানা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতিহিংসার বশে ৬-৭টি পরিবারের পানি যাওয়ার একমাত্র পথ মাটি ফেলে বন্ধ করে দিয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষায়, তাঁর এই আচরণ পুরো গ্রামকে পানিবন্দী করে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, “আমাদের এলাকায় বৃষ্টি হলেই রাস্তার ওপর পানি জমে থাকে। রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”
আরেক ভুক্তভোগী নোমান হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকার একমাত্র পানি যাওয়ার পথটি মহিব্বুল্যাহ মাওলানা গত দুই বছর ধরে বন্ধ করে রেখেছেন। গত বছর আমার পুকুর ও ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গিয়ে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

প্রভাবশালী মহিব্বুল্যাহ মাওলানার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার জায়গায় আমি মাটি দিয়েছি। এত বছর পানি গেছে, এখন আর দিতে চাই না। তাতে আপনাদের সমস্যা হলে আমার কিছু করার নেই।”

তাঁর এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, ব্যক্তি মালিকানার জমি হলেও পানি নিষ্কাশনের ঐ পথটি এত বছর ধরে গ্রামবাসীর চলাচল ও রক্ষার মাধ্যম ছিল। হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেওয়া শুধু অবিবেচনাপ্রসূত নয়, বরং এটি একটি নিষ্ঠুর প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ।

চর যতিনের এলাকাবাসী এখন একটাই দাবি জানাচ্ছেন—পরিকল্পিত ও আধুনিক পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়। সেইসঙ্গে প্রভাবশালীদের দখলদারি ও প্রতিহিংসামূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ আশা করছেন সবাই।

এই গ্রামে উন্নয়নের স্বপ্ন এখনও ঝাপসা, কিন্তু প্রতিটি বর্ষায় সেই স্বপ্নগুলো ভেসে যায় জমে থাকা পানির নিচে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..