শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
ড. ইউনূসের পদত্যাগ কী বাংলাদেশে সংকট ডেকে আনবে?
অনলাইন ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের মধ্যেই আলোচনায় যোগ দিয়েছেন কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার। এক স্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ইউনূস পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে কেবল একটি রাজনৈতিক ভুলই করেননি, বরং নিজের ভবিষ্যৎ ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন।
শুক্রবার (২৩ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক লেখায় তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ড. ইউনূসের উচিত হবে না কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করা। বরং তাকে সম্মান জানাতে হবে দেশের জনগণের ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষাকে, এবং অটল থাকতে হবে জনমানুষের ওপর আস্থার জায়গায়।
ফরহাদ মজহার আরও লেখেন, নির্বাচন নয়—রক্ত ও সংগ্রামের পথ বেয়ে জাতি ড. ইউনূসকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতির মর্যাদা দিতে হলে তাকে বিচার নিশ্চিত করতে হবে যুদ্ধাপরাধীদের, নতুন সংবিধানের রূপরেখা তৈরি করতে হবে নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের লক্ষ্যে। পাশপাশি, লোভী করপোরেট দখলদারিত্বের বিপরীতে গড়ে তুলতে হবে গণবান্ধব বিনিয়োগ কাঠামো এবং শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল সেনাবাহিনী, যা দিল্লি ও মিয়ানমারের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চোখ রাঙানিকে মোকাবিলা করতে সক্ষম। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকেই নিতে হবে নেতৃত্ব—তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মতো সাহস ও প্রস্তুতি এখানকার সেনাবাহিনীকেই নিতে হবে, কারণ এ দেশের সৈনিকেরা এই মাটিরই সন্তান, জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব বৃহৎ লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে, ইউনূস ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান বিভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে হবে। জনগণ প্রত্যাশা করে এই অবসান। নির্বাচন অবশ্যই দ্রুত হতে হবে, তবে সেনাপ্রধান নির্বাচনের বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী ও মাফিয়াদের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হতে পারে। আর যদি সেনাবাহিনী এমন ষড়যন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় জড়িয়ে পড়ে, তবে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে দেশকে—এর দায় নিতে হবে সেনাপ্রধানকে। সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে, ফরহাদ মজহার শেষ করেন তার বক্তব্য।