রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে।
রোববার (১ মার্চ) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি রোববার সকালে প্রচারিত খবরে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দুটি মার্কিন সূত্র এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি শামখানি এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোরও ছিলেন।
ইরানি একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হামলার কিছুক্ষণ আগে শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে খামেনি একটি সুরক্ষিত স্থাপনায় বৈঠক করছিলেন।
শনিবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করা হয়। স্যাটেলাইটচিত্রে দেখা যায়, তার প্রাসাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং আশপাশের এলাকা কালো হয়ে গেছে। এতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, আয়াতুল্লাহ খামেনিও নিহত হয়েছেন।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেই মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার, যারা খামেনি ও তার রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী দলের হাতে নিহত বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে তিনি বা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।’
ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা শুনছি যে তাদের আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চান না এবং আমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা (ইমিউনিটি) চাইছেন।’
তিনি যোগ করেন, ‘‘যেমন আমি গত রাতে বলেছি, ‘এখন তারা নিরাপত্তা পেতে পারে, পরে তারা শুধু মৃত্যুই পাবে!’ আশা করা যায়, আইআরজিসি ও পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একীভূত হবে এবং একসঙ্গে কাজ করে দেশকে তার প্রাপ্য মহত্ত্বে ফিরিয়ে আনবে।’’
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ৭ দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান সরকার।