রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
স্কুলে বোমা, ঘরে গোলা—জান্তার নিশানায় বেসামরিক প্রাণ!
অনলাইন ডেস্ক
মিয়ানমারের ম্যাগওয়ে অঞ্চলের ইয়েসাগিও টাউনশিপে সামরিক জান্তা বাহিনীর পরপর কয়েকটি নিষ্ঠুর হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সদ্য বিবাহিত এক প্রতিরোধ যোদ্ধা ও তার স্ত্রী—যাদের মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
গত বৃহস্পতিবার, ইয়েসাগিও শহর থেকে ১১ মাইল দক্ষিণের মাউক কা লান গ্রামে অবস্থিত একটি স্কুলে প্যারামোটর থেকে বর্বরভাবে বোমা ছুঁড়ে মারে সেনাবাহিনী। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর, গুরুতর আহত হন ১৬ বছরের এক মেয়ে ও ২৪ বছর বয়সী এক যুবক।
প্রতিরোধ বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, হামলার সময় গ্রামে কোনো ধরনের লড়াই চলছিল না। সেনাবাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্কুলটিকে লক্ষ্য করে বোমা ফেলেছে, কারণ তারা সন্দেহ করছিল—স্কুলটি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল। তবে প্রতিরোধ দল স্পষ্টভাবে জানায়, সেখানে কোনো যোদ্ধা অবস্থান করছিল না।
এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগেই ইয়েসাগিও শহরের দক্ষিণাঞ্চলের কান বেইত গ্রামে আরেকটি প্রাণঘাতী হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছোড়া দুটি গোলার বিস্ফোরণে প্রাণ হারান চারজন, যাদের মধ্যে ছিলেন সদ্য বিবাহিত এক প্রতিরোধ যোদ্ধা ও তার স্ত্রী। আহত হন আরও চারজন নিরীহ গ্রামবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রথম গোলাটি আঘাত হানে একটি মঠের পাশের বাড়িতে এবং দ্বিতীয় গোলাটি বিস্ফোরিত হয় ঠিক তখনই, যখন আগুন নেভাতে ছুটে আসে কিছু সাহসী মানুষ। তাদের মধ্যেই ছিলেন নিহতরা।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এক নারী শিক্ষক, ১৭ বছরের এক কিশোর, ২০ বছর বয়সী প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং তার ২৪ বছরের স্ত্রী—যারা কিছুদিন আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, ইয়েসাগিও শহরের কেন্দ্রে তিনটি সামরিক ব্যাটালিয়ন ঘাঁটি থাকলেও শহরের বাইরের অধিকাংশ এলাকায় দখলদারিত্ব রয়েছে প্রতিরোধ বাহিনীর হাতে। গ্রামগুলোতে তারা নিয়মিত সক্রিয়ভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।
এছাড়া, জুলাই মাসের শুরুতেই একটি সেনা কনভয়ের ওপর মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জান্তার খাদ্য ও রসদের সরবরাহ আটকায় প্রতিরোধ বাহিনী। ওই অভিযানে তারা গুরুত্বপূর্ণ রসদ জব্দ করে।
মিয়ানমারে চলমান এই গৃহযুদ্ধ সাধারণ মানুষের জীবনকে রীতিমতো বিভীষিকায় পরিণত করেছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে হত্যাকাণ্ড, নারী-শিশু নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা—এ যেন এক নিরব গণহত্যার মঞ্চ।