রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন
ইসরায়েলের সঙ্গে নয় এখনই, লেবাননের সাফ ‘না’!
অনলাইন ডেস্ক
বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখাচ্ছে না লেবানন। তবে ভবিষ্যতের জন্য রয়েছে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বপ্ন’। এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আওন।
শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট আওন সরাসরি বলেন, ‘শান্তির মানে যুদ্ধ থামানো, আর এটাই এখন সবচেয়ে বেশি দরকার।’ কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ লেবাননের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির কোনো অংশ নয় বলেই জানিয়ে দেন তিনি।
সম্প্রতি ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তার দেশ সিরিয়া ও লেবাননের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রেসিডেন্ট আওনের এমন জবাব আসে।
তিনি আরও জানান, এখনো দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই জমিগুলো থেকে ইসরায়েলি সেনারা না সরলে প্রকৃত শান্তি সম্ভব নয়।’ তিনি সীমান্ত পর্যন্ত পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ চায় লেবানন, যাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব সুসংহত করা যায়।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে লিটানি নদীর উত্তরে সরে যেতে হবে এবং ওই অঞ্চলে শুধু লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা দায়িত্বে থাকবে। অথচ বাস্তবতা এখনো তা নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র একধাপ এগিয়ে লেবাননকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও লেবানন এর জবাব দিলেও তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। প্রেসিডেন্ট আওন শুধু বলেন, ‘অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে সরকারের হাতে। তবে সেটি করতে হবে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করে।’ অর্থাৎ, বলপ্রয়োগের কোনো পথেই হাঁটতে চায় না বৈরুত।
প্রসঙ্গত, ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে হিজবুল্লাহই একমাত্র দল, যারা এখনো অস্ত্র হাতে রেখেছে। তখন দক্ষিণ লেবানন ছিল ইসরায়েলের দখলে। তবে বিগত বছরের দীর্ঘ উত্তেজনা ও দুই মাসের সীমান্ত যুদ্ধ হিজবুল্লাহর অনেক শক্তি খরচ করেছে বলেই ধারণা করছে আন্তর্জাতিক মহল।