রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন
হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়াই শাদমানি খুঁজে পেল ইসরায়েল!
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পেয়ে ইরানের এক শীর্ষ জেনারেল বিশেষ সতর্কতা নেন। মোবাইল ফোন তো দূরের কথা, কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসও সঙ্গে ছিল না তার। সামরিক ইউনিফর্মও খুলে ফেলেছেন, ছদ্মবেশ ধারণ করে গোপনে ছিলেন। তবুও ইসরায়েল তার অবস্থান চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করে হত্যার পরিকল্পনা কার্যকর করে।
খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের নতুন কমান্ডার আলী শাদমানিকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার দিন পরই হত্যা করা হয়। তার আগে, তার পূর্বসূরি গোলাম আলী রশিদকেও ইসরায়েলি হামলায় হারাতে হয়।
শাদমানির মৃত্যুর পর ইরানে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। অভিযোগ ওঠে, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ডাটা ফাঁসের মাধ্যমে তাকে খুঁজে বের করেছে ইসরায়েল। কিন্তু এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তার মেয়ে মাহদিহ শাদমানি মুখ খুলেছেন। খবরটি এসেছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল থেকে।
ইসরায়েল তাদের নিশানাগুলো খুঁজে বের করার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ আসার পর মাহদিহ ইনস্টাগ্রামে লেখেন, তার বাবার অবস্থান ঘণ্টা খানিক অন্তর পরিবর্তিত হতো। বাবার কাছে কোনো স্মার্ট ডিভাইস ছিল না, নিরাপত্তার সব নিয়ম মানা হতো। তবুও যুদ্ধকালীন সময় যুদ্ধ সদর দপ্তরের প্রধানকে ইসরায়েল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও জানান, শাদমানি হত্যার সময় ইউনিফর্ম পরেছিলেন না, ধুলোমাখা সাধারণ পোশাক পরে ছিলেন, সামরিক চিহ্নও ছিল না তার। এই অবস্থান থেকেই তাকে শনাক্ত করে হত্যা করা হয়।
ইরানের গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, ইরানি সামরিক কমান্ডারদের অবস্থান জানতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেছে ইসরায়েল।
বারো দিনের সংঘর্ষের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নাগরিকদের স্মার্টফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মুছে ফেলার আহ্বান জানায়। অভিযোগ করা হয়, এই অ্যাপ ইসরায়েলে তথ্য পাঠায়।
তবে হোয়াটসঅ্যাপ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দাবি করেছে, এসব অভিযোগ ইরানের অভ্যন্তরে ব্যবহারকারীদের পরিষেবা বন্ধ রাখার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
সামরিক সংঘর্ষে ইসরায়েল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বহু শীর্ষ কমান্ডারকে খতম করেছে। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, বিপ্লবী গার্ডের প্রধান হোসেইন সালামি, আইআরজিসি এরোস্পেস কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহ ও ডেপুটি ফর অপারেশনস মেহেদী রব্বানি অন্যতম।