রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন
সাদাসিধে পোশাকের আড়ালে ২০০ বিলিয়নের নিয়ন্ত্রক!
অনলাইন ডেস্ক
গোটা মুসলিম উম্মাহ যখন নির্যাতনের ছায়ায় নিঃস্ব, তখন ইরানের মিম্বার থেকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বজ্রকণ্ঠে শোনা যায় প্রতিবাদের রণহুঙ্কার। যেখানে আরব শাসকরা নিজেদের স্বার্থে গাজাবাসীর রক্ত বিক্রি করে দিয়েছে, সেখানে খামেনির কণ্ঠ যেন অন্ধকার আকাশে চমকে ওঠা আশার এক বিজলি।
যদিও পশ্চিমা নেতাদের দৃষ্টিতে তিনি চোখের কাঁটা, ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আসনে অবিচল রয়েছেন খামেনি। তার জীবনযাপন এতটাই সাদামাটা যে অনেকেই তাকে সাধারণ আলেম বলেই ভাবেন। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এমন সম্পদ, যা দিয়ে একাধিক বিশ্বনেতাকে কিনে নেওয়া সম্ভব।
রাজকীয় জৌলুস বা বিলাসিতার ছিটেফোঁটা নেই। খামেনির জীবনজুড়ে শুধু আত্মনিয়ন্ত্রণ, তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টির খোঁজ। তবে এই সাদামাটা জীবনযাপনের আড়ালে পশ্চিমাদের দাবি, তিনি পৃথিবীর অন্যতম ধনী শাসক। নানা গোয়েন্দা রিপোর্টেই পাওয়া গেছে তার বিপুল সম্পদের ছায়া।
২০১৩ সালে এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স জানায়, খামেনির মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরবর্তী সময়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ২০১৯-২০২৫ সময়কালে এটি বেড়ে ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যদিও ‘Celebrity Net Worth’ এর মতে, তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ৫০ হাজার ডলার।
ইরানি বিপ্লব-পরবর্তী সময় বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত হয় ‘সেতাদ’ নামের সংস্থা, যেটি ইসলামী উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যবহার করে থাকে এবং যেটির নিয়ন্ত্রণে আছেন খামেনি নিজেই। এই সংস্থার সম্পদ বর্তমানে প্রায় ৯৫ থেকে ২০০ বিলিয়নের মধ্যেই বলে ধারণা করা হয়। যদিও আইনত খামেনি এসব সম্পদের মালিক না, বাস্তবে তার একক নিয়ন্ত্রণেই সবকিছু। এ বাজেট সরকারি খাতের বাইরে, যার ওপর রাষ্ট্রপতি বা সংসদেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
বিরোধীদের দাবি, এসব অর্থ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন, প্রভাব বিস্তার ও নিজের ক্ষমতা সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয়। তবে খামেনির জীবন দেখে তা বোঝার উপায় নেই। ইসলামের শীর্ষ পদে থেকেও তিনি আজও সাদামাটা পোশাকে, জৌলুশহীন পরিবেশে জীবন যাপন করেন। নেই বিদেশে কোনো প্রাসাদ, ব্যক্তিগত বিমানের বাহার বা ভোগের সাম্রাজ্য। অনেক রাষ্ট্রপ্রধান যখন বিলাসিতা নিয়ে গর্ব করেন, খামেনি তখনও ইসলামের জন্য আত্মত্যাগে প্রস্তুত এক মুজাহিদ।