রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন
কিমের অঝোর কান্না: রাশিয়া যুদ্ধে সেনা হারানোর বেদনা!
অনলাইন ডেস্ক
নিঃসন্দেহে স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে পরিচিত উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। পুরো দেশ তার একক ক্ষমতার অধীনে পরিচালিত। তবে এবার দেখা গেল একেবারে ভিন্ন চেহারায়—প্রকাশ্যে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেল তাকে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) গণমাধ্যম ইয়াহু নিউজের বরাত দিয়ে দ্য টেলিগ্রাফ এমনই এক চমকপ্রদ খবর প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কিম। রাশিয়ায় যৌথ যুদ্ধে প্রাণ হারানো উত্তর কোরীয় সেনাদের সম্মান জানাতে এই আয়োজন করা হয়েছিল।
দ্য টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বাহিনীর সঙ্গে একত্রে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত সেনাদের কফিনের সামনে কিম এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি। মস্কোর সঙ্গে সামরিক চুক্তির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যখন যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল, তখনই ভেঙে পড়েন কিম।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, কিম পতাকায় মোড়ানো কফিনে হাত রেখে হাঁটু গেঁড়ে বসে রয়েছেন। এসময় তার চোখ ভেজা, নিঃশ্বাসের গতি দ্রুত, যেন পুরো পরিস্থিতি তাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
একটি আলাদা ভিডিওতে দেখা যায়, রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিচ্ছেন কিম। গত বছরের শেষদিকে ওই অঞ্চলে উত্তর কোরীয় সেনাদের মোতায়েন করা হয়।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, কুর্স্ক অঞ্চলে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ৬ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা হতাহত হয়েছেন।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) জানায়, গত ৮ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার বিশেষ বাহিনীর অন্তত ১৫০০ সেনা নৌবাহিনীর জাহাজে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছে দেওয়া হয়।
গোয়েন্দাদের মতে, শিগগিরই আরও সেনা রাশিয়ায় পাঠানো হতে পারে, যা তৃতীয় কোনো পক্ষকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং উত্তর কোরিয়া-পশ্চিমের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এনআইএস আরও জানিয়েছে, রাশিয়ায় পৌঁছানো উত্তর কোরীয় সেনাদের রুশ সেনাদের ইউনিফর্ম, অস্ত্র এবং জাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে ভ্লাদিভস্তকের সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও উসুরিয়স্ক, খবরোভস্ক ও ব্লাগোভেশচেনস্কে অবস্থান করছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হতে পারে।