রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
চাকরি দেওয়ার নামে যুবকদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছিল চক্র!
অনলাইন ডেস্ক,
বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে বগুড়ার টিনপট্টি ও শাকপালা এলাকায় এক যৌথ অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনী চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে প্রতারণার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলামতও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শহরের শাকপালা এলাকার তাহের আলী রঞ্জু (৪০) ও বায়েজিদ মিয়া (৩৮)। এ সময় সেনাবাহিনীতে চাকরির আশায় প্রতারণার শিকার হওয়া শিবগঞ্জের মোকামতলা এলাকার তরুণ সাকিব মিয়াকে (১৮) উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, প্রথমে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টিনপট্টির একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সাকিবকে উদ্ধার ও বায়েজিদকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যে শাকপালার নিজ বাসা থেকে চক্রের অন্যতম হোতা তাহের রঞ্জুকে আটক করা হয়। অভিযানে সাতজন চাকরি প্রত্যাশীর আসল এইচএসসি সনদ, চারটি ব্যাংক চেক ও ১৪টি স্বাক্ষরকৃত ফাঁকা স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জানে আলম সাদিফ গণমাধ্যমকে বলেন, চক্রটি মূলত সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীতে চাকরি চাওয়া তরুণদের টার্গেট করত। কেউ কেউ নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেলেও, প্রতারকরা সেই কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করত।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি পুলিশ কনস্টেবল ও সেনাবাহিনীর সৈনিক নিয়োগ ঘিরে অন্তত পাঁচজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এই চক্রটি। তবে তাদের কেউই নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। গ্রেপ্তার হওয়া দুই প্রতারককে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, সেনাবাহিনীর তৎপরতায় আটক প্রতারকদের থানায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা করে আদালতে পাঠানো হবে।