রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ইসরায়েল ও সৌদি আরব চাপ সৃষ্টি করেছিল—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ইরানে সামরিক হামলার পক্ষে অবস্থান নেন। অপরদিকে সৌদি আরবের ভূমিকা ছিল অপেক্ষাকৃত জটিল ও দ্বৈতধর্মী। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত এক মাসে একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ফোনালাপ করে হামলার পক্ষে মত দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই বক্তব্য দিয়েছেন।
একই সময়ে রিয়াদ সরকারিভাবে জানায়, ইরানে হামলা হলে সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সালমান মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ইরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
শনিবার ট্রাম্প জানান, দুটি কারণে তিনি অপারেশন এপিক ফিউরি চালুর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমত, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে যায়। দ্বিতীয়ত, পূর্ববর্তী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান কখনও আলোচনায় অগ্রসর হয়, আবার হঠাৎ সরে দাঁড়ায়। এতে তিনি ধারণা করেন, তারা আসলে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নয়।
তিনি আরও বলেন, গত ২৫ বছরে বিশ্বজুড়ে ইরান-সম্পৃক্ত হামলার একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন তিনি। সেই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় প্রতি মাসেই কোনো না কোনো সহিংস ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।