শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
শরীর সুস্থ রাখতে পানি অপরিহার্য। চিকিৎসকরা পরিমিত পানি পানের পরামর্শ দেন, কারণ শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঠিক কার্যক্রমের জন্য পানি অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পরিমাণে পানি পান করলে দেহের রেচন প্রক্রিয়া যেমন মূত্র এবং মল ত্যাগ স্বাভাবিক থাকে।
তবে পানি পান করার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানা প্রয়োজন। দেহের তৃষ্ণা আমাদের শরীরের অভ্যন্তরের অবস্থার সংকেত দেয়। তাই পানি পান করার আগেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। অনেকেই প্রস্রাবের পরপরই তৃষ্ণা অনুভব করেন এবং সেই সঙ্গে পানি পান করেন। আবার কেউ কেউ তৃষ্ণা না পেলেও প্রস্রাবের পর পানি পান করেন, কারণ তাদের ধারণা অনুযায়ী মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ার কারণে ঘাটতি পূরণ করা জরুরি।
কিন্তু কিছু মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে যে, প্রস্রাবের পর পানি পান করা কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তারা মনে করেন, এতে কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কা থাকে বা কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। তবে আসল সত্যটা কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের পর পানি পান করা স্বাভাবিক এবং এতে কোনো ক্ষতি নেই। শরীরের হাইড্রেশন মাত্রার ওপর নির্ভর করে তৃষ্ণা লাগলে পানি পান করা উচিত। প্রস্রাবের পরপর পানি পান করলে কিডনির কোনো ক্ষতি হয় না। বরং শরীর যখন তৃষ্ণা অনুভব করে, তখন পানি পান করা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি পানি পান করা কিডনি ও হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা শরীরের জন্য উপকারী। তবে বিনা তৃষ্ণায় জোর করে পানি পান না করাই ভালো।
সুতরাং, তৃষ্ণা অনুভব করলে প্রস্রাবের পর পানি পান করাই স্বাভাবিক। কিডনি স্টোন বা কিডনির ক্ষতির ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। সঠিক তথ্য জানা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলাই শ্রেয়।