মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
ইন্দোনেশিয়ায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী জাকার্তার নিকটবর্তী এলাকায় সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৮০ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন এখনো ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
দেশটির কমিউটার ট্রেন পরিচালনাকারী সংস্থার মুখপাত্র করিনা আমান্ডা গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার গভীর রাতে বেকাশি শহরের একটি রেলস্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাকার্তার কাছাকাছি এলাকায় একটি কমিউটার ট্রেনের সঙ্গে একটি দূরপাল্লার ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
একজন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত চারজন জীবিত অবস্থায় আটকা রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ স্যাফিই বলেন, উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় ট্রেন পরিচালনাকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ১৪ জনে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, সংকীর্ণ এলাকা এবং ট্রেনের বগির ব্যাপক ক্ষতির কারণে উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে উঠেছে। আটকে পড়াদের বের করতে উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ কাটছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রতিবেদকদের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারীরা অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করে ট্রেনের ধাতব অংশ কেটে যাত্রীদের বের করার চেষ্টা করছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত রেলওয়ে অপারেটরের এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং ৭৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্য এক মুখপাত্র ফ্রানোতো উইবোও বলেন, একটি লেভেল ক্রসিংয়ে একটি ট্যাক্সি কমিউটার ট্রেনটিকে ধাক্কা দিলে সেটি লাইনের ওপর থেমে যায়। পরে দ্রুতগতির দূরপাল্লার ট্রেনটি এসে সেটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি ছিল জাকার্তা থেকে চিকরাংগামী কমিউটার ট্রেন এবং ‘আরগো ব্রোমো অ্যাংরেক’ নামের একটি দূরপাল্লার ট্রেন, যা জাকার্তা ও সুরাবায়ার মধ্যে নিয়মিত চলাচল করে।
ইন্দোনেশিয়ায় এ ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা নতুন নয়। ২০১০ সালে জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রেন মধ্য জাভায় দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খেলে ৩৬ জন নিহত হন। এছাড়া ২০১৫ সালে পশ্চিম জাভায় একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের ধাক্কায় একটি মিনিবাসের ১৮ জন আরোহী নিহত হন।