শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে লিভারের অবস্থার ওপর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার কারণে এই প্রবণতা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন লিভারের প্রতি অবহেলা করলে সিরোসিসসহ মারাত্মক জটিল রোগ দেখা দিতে পারে।
লিভার ভালো রাখতে হলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে সবচেয়ে ক্ষতিকর কিছু পানীয়, যা নিয়মিত পান করলে লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে।
অ্যালকোহল লিভারের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক পানীয়। অতিরিক্ত মদ্যপান অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার, হেপাটাইটিস ও সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। অ্যালকোহল লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকি মাঝেমধ্যে মদ্যপান করলেও নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার হতে পারে।
বাজারে প্রচলিত প্যাকেটজাত ফলের রস বা তথাকথিত ‘হেলদি’ জুসে বিপুল পরিমাণ চিনি মিশ্রিত থাকে। এই অতিরিক্ত চিনি শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা হয়, যা লিভারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। অনেকেই এই পানীয়গুলো স্বাস্থ্যকর মনে করে পান করেন, অথচ এগুলোই লিভারের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এনার্জি ড্রিংকসও একইভাবে ক্ষতিকর।
নিয়মিত কোল্ড ড্রিংকস পান করা তরুণদের মধ্যে একটি সাধারণ অভ্যাস হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই পানীয়গুলোর উচ্চমাত্রার চিনি ও কৃত্রিম উপাদান লিভারে চর্বি জমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগীদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত সোডা পান করে থাকেন।
সুস্থ লিভারের জন্য আজ থেকেই এসব পানীয় এড়িয়ে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অনুসরণ করলেই লিভার দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।