সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
মন খারাপ হলে কেনাকাটা করাটাই কি সেরা ওষুধ? জেনে নিন!
অনলাইন ডেস্ক
কেনাকাটা শুধু প্রয়োজন মেটানোর মাধ্যম নয়, বরং অনেকের জন্য এটি মানসিক চাপ কমানোর একটা কার্যকর উপায়। দোকানে ঘুরে বিভিন্ন পণ্য দেখার মধ্য দিয়েই অনেকের মন ভালো হয়ে যায়। অনলাইনে সারা দিনের মুদিপণ্য থেকে শুরু করে পোশাক, ইলেকট্রনিক্স—সবই কেনাকাটা করতে ভালো লাগে। তবে এই আনন্দ শুধু সাময়িক নয়, বিজ্ঞানেও প্রমাণ আছে কেনাকাটার মাধ্যমে আমরা মানসিক চাপ কমাতে পারি। এই মন ভালো করার প্রক্রিয়াটিকেই বলা হয় ‘রিটেইল থেরাপি’।
রিটেইল থেরাপির মাধ্যমে কেনাকাটা করলে মনের মধ্যে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি হয়, যা নেতিবাচক ভাবনা দূর করে আনন্দ ও স্বস্তি দেয়। ‘জার্নাল অব কনজ্যুমার সাইকোলজি’–এর একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, কেনাকাটা করার সময় মানুষ তাদের নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। ২০১৪ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, নিয়মিত কেনাকাটার মাধ্যমে আমরা জীবনের ছোটখাটো সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, যা মানসিক দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।
২০১১ সালের আরেকটি গবেষণায় প্রায় ৪০৭ জন মানুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে জানা গেছে, আকস্মিক কেনাকাটা বিশেষ করে যখন মন খারাপ থাকে, তাৎক্ষণিকভাবে মন ভালো করতে সহায়তা করে। এছাড়া যারা সচেতনভাবে কেনাকাটা করতে চান, তাদের জন্যও রিটেইল থেরাপি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সবচেয়ে ভালো খবর হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রিটেইল থেরাপি থেকে কোনো মানসিক চাপ বা অনুশোচনা তৈরি হয় না। কেনাকাটার মাধ্যমে যে ফুরফুরে ভাব আসে, তা অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হয়।
অবশ্য, অনেকেই ভাবেন, এই থেরাপির কারণে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী তাদের বাজেটের মধ্যেই কেনাকাটা করেছেন। অর্থাৎ, সঠিক পরিকল্পনায় রিটেইল থেরাপি পুরোপুরি নিরাপদ ও উপকারী।
তবে এটা মনে রাখা জরুরি, রিটেইল থেরাপি কোনো চিকিৎসা নয়। অতিরিক্ত কেনাকাটা আর্থিক সংকট ডেকে আনতে পারে। যদি কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই পেশাদার থেরাপিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
সুত্র: ইনস্টাগ্রাম, হেলথলাইন