শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচার, এবার আদালতে মুখোমুখি!
অনলাইন ডেস্ক
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠা জমি বরাদ্দের দুর্নীতি নিয়ে দুদকের করা ছয়টি মামলা বিচারের জন্য দুইটি পৃথক আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাগুলোর অভিযোগ গঠন শুনানি আগামী ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এবং বিশেষ জজ আদালত-৫-এ তিনটি করে মামলা পাঠানো হয়েছে। রোববার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিব মামলাগুলো বিচারের জন্য বদলির আদেশ দেন।
এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার পরিবারের একাধিক সদস্য আসামি হয়েছেন। তারা হলেন—ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক।
এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, এবং আরও একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট নিয়েছেন, যা তারা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। এভাবে ২০৩ নম্বর রোডের ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে দুদক এই অনিয়মের অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কূটনৈতিক জোন এলাকায় শেখ হাসিনা, জয়, পুতুল, শেখ রেহানা, রাদওয়ান ও আজমিনার নামে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে শেখ হাসিনা ১০ কাঠার প্লট (নম্বর ০০৯) ২০২২ সালের ৩ আগস্ট বরাদ্দ পান। জয় (প্লট ০১৫), পুতুল (প্লট ০১৭), শেখ রেহানা (প্লট ০১৩), রাদওয়ান (প্লট ০১১) ও আজমিনা (প্লট ০১৯) প্রত্যেকেই ১০ কাঠার প্লট পেয়েছেন।
এ বছরের ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি দুদক এসব ঘটনায় পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে।