শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
আদালতে হ্যান্ডক্যাপের আঘাতে সাবেক মন্ত্রীর হাত কেটে গেল!
অনলাইন ডেস্ক
আদালতে শুনানির সময় হ্যান্ডক্যাপে হাত কেটে রক্তাক্ত হন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে আইনজীবী তার হাতে ব্যান্ডেজ করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
বুধবার (২৮ মার্চ) সকালে কারাগার থেকে আমুকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীতে একটি হত্যাচেষ্টা মামলার শুনানির জন্য তাকে হাতে হ্যান্ডক্যাপ, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুবের আদালতে তোলা হয়।
বয়স্ক ও অসুস্থ অবস্থায় একা চলাফেরা করতে অক্ষম আমির হোসেন আমুকে ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে আসেন। সিঁড়ি চড়তেও পুলিশ সদস্যরা বেশ কষ্ট পেয়েছিলেন। পরে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে তাকে এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়।
কাঠগড়ায় উপস্থিত হলে দেখা যায়, তার হাত কেটে রক্ত বের হচ্ছে। আমু রক্ত থামাতে টিস্যু দিয়ে চাপ দিয়ে ধরেছিলেন, যার ফলে টিস্যু পুরো ভিজে যায়। কাঠগড়ায় বসার জন্য আদালতের কর্মচারীদের কাছে তিনি একটি টুলের অনুরোধ করেন, কিন্তু প্রথমে কেউ সাড়া দেননি। কয়েক মিনিট পর আবার টুলের জন্য অনুরোধ করলে একজন আদালত কর্মকর্তা এগিয়ে আসেন, কিন্তু পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে টুল দিতে হবে। পরে আমুর আইনজীবী মো. মহসিন রেজা পলাশ বসার জন্য টুলের ব্যবস্থা করার আবেদন করলে আদালত সেটি মঞ্জুর করেন। এরপর আমু তার আইনজীবীর সঙ্গে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানির ব্যাপারে পরামর্শ নেন, তিনি বলেন পারিবারিকভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
হাত কাটা বিষয়টি নিয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে আমুর আইনজীবী মো. মহসিন রেজা পলাশ নিজেই তার হাতে স্যাভলন দিয়ে ব্যান্ডেজ করেন।
আইনজীবী মো. মহসিন রেজা পলাশ গণমাধ্যমকে জানান, আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে হ্যান্ডক্যাপের ধারালো অংশে আমুর নখ কেটে যায়। আমু রক্ত থামাতে টিস্যু ব্যবহার করেছিলেন, যা রক্তে ভিজে যাওয়ায় আদালতের অনুমতি নিয়ে ব্যান্ডেজ করানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমএম আদালতের হাজতখানার উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না, কারণ তিনি সামনে ছিলেন এবং পেছনে কেউ ছিল, তাই খেয়াল করতে পারেননি।
অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত আমুকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানাধীন রায়েরবাগ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন লাভলু নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনার পর ২০ মার্চ শেখ হাসিনা ও ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন তিনি।