রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
ভারতে আশ্রয় নিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সম্পর্কে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং এতে দেশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “ভারত তাকে আশ্রয় দেওয়াটা মেনে নেওয়া যায়, তবে ভারতকে ব্যবহার করে দেশে এমন প্রোপাগান্ডা চালাতে দেওয়া বিপজ্জনক। এটি শুধু দেশকে অস্থিতিশীলই করবে।”
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিক হান্না এলিস-পিটারসেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের সেসময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “হাসিনা যে ক্ষতি করেছেন, তা ভয়াবহ। এটি ছিল গাজার মতো, যেখানে সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেছে—কেবল ভবন নয়, রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান, নৈতিকতা, জনগণ, আন্তর্জাতিক সম্পর্কও ভেঙে পড়েছে।”
শেখ হাসিনার শাসনকালে দেশে কোনো সরকার ছিল না, দাবি করে ড. ইউনূস বলেন, “এটা ছিল একটি দস্যু পরিবারের শাসন, যেখানে সরকারপ্রধানের কোন আদেশই প্রশ্নবিদ্ধ হতো না। যারা বিরোধিতা করেছিল, তাদের হারিয়ে দেওয়া হতো, যারা নির্বাচন করতে চেয়েছে, তাদের জন্য ভোটের ফল নিশ্চিত করা হতো, আর যাদের টাকা দরকার ছিল, তাদের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ দিতেন, যেটা কখনোই ফেরত দিতে হতো না।”
১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পর গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ভারতে পালিয়ে যান। এরপর, অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশের দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান। ড. ইউনূস গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিতে রাজি হন।
৮ আগস্ট শপথ গ্রহণের পর, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শুরু হয়েছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।