শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
সম্প্রতি মানুষের খাদ্যাভাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ছোটরা শাকসবজি খেতে চায় না, যার ফলে রক্তস্বল্পতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ রক্তস্বল্পতা হলে কোন খাবার খেতে হবে তা জানেন, তবে কীভাবে সেই খাবারগুলি খাওয়া উচিত, তা কম লোকই জানে।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক কোন খাবার কীভাবে খেলে রক্তস্বল্পতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় এই বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
রক্তস্বল্পতা বলতে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়াকে বোঝায়। যখন শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়, তখন হিমোগ্লোবিনের ঘনত্বও কমে যায়। ফলে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায় এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।
হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় থাকা এক ধরনের প্রোটিন, যার মধ্যে আয়রন এবং অক্সিজেন থাকে। পুরুষদের রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ স্বাভাবিকভাবে ১৩.৮ থেকে ১৭.২ ডেসিলিটার হওয়া উচিত। নারীদের ক্ষেত্রে এটি ১২.১ থেকে ১৫.১ ডেসিলিটার হতে হবে। এর চেয়ে কমে গেলে রক্তস্বল্পতার সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসকরা বলেন, রক্তে আয়রনের অভাব পূরণ করতে পালং, ব্রোকোলি, বিট, পনির, ডিম, আপেল, তরমুজ, বেদানা, কুমড়োর বীজ, আমন্ড, অ্যাপ্রিকট এবং কিশমিশ খেতে পারেন। তবে কীভাবে খাবেন?
আসুন জেনে নেওয়া যাক: ১. বিটে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে বিট খেতে হবে জুস বা স্যালাদ হিসেবে। তেলে ভাজা বা মসলা দিয়ে খেলে তেমন উপকার পাওয়া যাবে না। ২. আপেলেও ভালো পরিমাণে আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে, যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। আপেলের জুস খেলে ভালো ফল পাবেন। ৩. রক্তস্বল্পতার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী খাবার হচ্ছে খেজুর। খেজুর একেবারে বা দুধের সঙ্গে খেতে পারেন। চাটনি করে খেলে তেমন উপকার পাবেন না। ৪. সূর্যমুখী এবং কুমড়োর বীজেও প্রচুর আয়রন রয়েছে। এসব বীজ শুকিয়ে খেতে পারেন। ৫. বেদানা, যেভাবেই খান না কেন, তা আয়রন এবং ভিটামিন সি প্রদান করবে।
যদি রক্তস্বল্পতা গুরুতর হয়ে ওঠে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।