1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
নতুন জাতীয় পে স্কেল দ্বিগুণ হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন - Janatar Jagoron

নতুন জাতীয় পে স্কেল দ্বিগুণ হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন

  • সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত
জাতীয় পে স্কেল

দীর্ঘ এক যুগের কাছাকাছি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করা হবে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতন কাঠামো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ ঘোষণার ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আগামী মাস থেকেই শুরু হবে। বর্তমানে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের ব্যবধান প্রায় ১:৮ অনুপাতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.০৭৬। অতীতের বেশ কয়েকটি জাতীয় বেতন কাঠামোতেও প্রায় একই ধরনের ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছিল।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় সব গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারী বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত করে মাসিক মোট প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পর্যন্ত প্রাপ্যতা পেতে পারেন।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী গ্রেড-১-এর মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, গ্রেড-২-এর বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, গ্রেড-৩-এর বেতন ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এর বেতন ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রেড-৫-এর বেতন ৪৩ হাজার টাকা থেকে ৮৬ হাজার টাকা, গ্রেড-৬-এর বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৭১ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এর বেতন ২৯ হাজার টাকা থেকে ৫৮ হাজার টাকা, গ্রেড-৮-এর বেতন ২৩ হাজার টাকা থেকে ৪৭ হাজার ২০০ টাকা এবং গ্রেড-৯-এর বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে ৪৫ হাজার ১০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

একইভাবে গ্রেড-১০-এর বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে ৩২ হাজার টাকা, গ্রেড-১১-এর বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা, গ্রেড-১২-এর বেতন ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা, গ্রেড-১৩-এর বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১৪-এর বেতন ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে গ্রেড-১৫-এর বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২২ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৬-এর বেতন ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-এর বেতন ৯ হাজার টাকা থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, গ্রেড-১৮-এর বেতন ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২১ হাজার টাকা, গ্রেড-১৯-এর বেতন ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এর বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবং জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য পৃথক বেতন ধাপ (স্টেপ) নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে অর্থ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বাজেটের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা খাতে আগামী অর্থবছরে মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৫ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকার তুলনায় বেশি।

বাজেটের সম্পদ ব্যবহার অংশে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। ফলে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বরাদ্দের মধ্যে অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ছাড়াও নতুন নিয়োগ, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় এবং পেনশনভোগীদের অতিরিক্ত সুবিধা নিশ্চিত করতেও এই বরাদ্দের একটি বড় অংশ ব্যবহার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..