শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ই-মেইল লেখা, তথ্য অনুসন্ধান কিংবা একাকিত্ব কাটানোর আলাপ—সব ক্ষেত্রেই এসব চ্যাটবট ব্যবহৃত হচ্ছে। মানুষের মতো উত্তর দেওয়ার ক্ষমতার কারণে অনেকেই এগুলোকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্ভরতার আড়ালে রয়েছে কিছু গুরুতর ঝুঁকি।
তাদের দাবি, চ্যাটবটের সঙ্গে হওয়া কথোপকথন সম্পূর্ণ গোপন নয়। ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য সংরক্ষিত হতে পারে, বিশ্লেষণ করা হতে পারে এবং ভবিষ্যতে তা ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই কিছু সংবেদনশীল তথ্য কখনোই এআইয়ের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়।
চলুন জেনে নিই এমন ধরনের তথ্য যা চ্যাটবটের সঙ্গে ভাগ করা উচিত নয়—
১. ব্যক্তিগত তথ্য
আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা ই-মেইল আলাদা আলাদা হলেও একসাথে করলে সহজেই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব। এতে প্রতারণা, ফিশিং ও ট্র্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়ে।
২. গোপন ব্যক্তিগত অনুভূতি বা স্বীকারোক্তি
অনেকে একাকিত্বে চ্যাটবটকে ব্যক্তিগত কথা বলেন। তবে এটি কোনো বন্ধু বা থেরাপিস্ট নয়। দেওয়া তথ্য সংরক্ষিত হতে পারে বা প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে।
৩. কর্মস্থলের গোপন তথ্য
প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কৌশল, নথি বা সংবেদনশীল ডেটা চ্যাটবটে দেওয়া বিপজ্জনক। এতে কর্পোরেট তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৪. আর্থিক তথ্য
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, কার্ড নম্বর বা আর্থিক পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য সাইবার অপরাধীদের লক্ষ্য হতে পারে। তাই এসব তথ্য শেয়ার করা নিরাপদ নয়।
৫. স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য
চ্যাটবট চিকিৎসক নয়। প্রেসক্রিপশন, রোগ ইতিহাস বা বিমার তথ্য শেয়ার করলে ভুল ব্যাখ্যা বা ডেটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
৬. অশ্লীল বা আপত্তিকর বিষয়
অবৈধ বা অশালীন কথোপকথন রেকর্ড হতে পারে এবং অ্যাকাউন্টের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
৭. পাসওয়ার্ড
কোনো অবস্থাতেই পাসওয়ার্ড চ্যাটবটের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। এতে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৮. আইনি জটিলতা
মামলা, চুক্তি বা আইনি বিষয়ে চ্যাটবটের পরামর্শ নির্ভরযোগ্য নয় এবং ভুল তথ্যের কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
৯. সংবেদনশীল ছবি বা ডকুমেন্ট
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত ছবি আপলোড করলে পরিচয় চুরির ঝুঁকি তৈরি হয়।
১০. ভবিষ্যতে গোপন রাখতে চান এমন তথ্য
যে তথ্য আপনি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে চান না, তা চ্যাটবটেও শেয়ার না করাই নিরাপদ।