মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) যথারীতি খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
বুধবার (১২ নভেম্বর) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও আগামী ১৩ নভেম্বর দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল খোলা থাকবে। অর্থাৎ, লকডাউনের দিনেও ব্যবসা চলবে আগের মতোই।
তবে বিপরীত চিত্রও দেখা যাচ্ছে রাজধানীর রাস্তায়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সারাদেশে লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১৩ নভেম্বরের জন্য। এরপর থেকেই বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ আর ঝটিকা হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান। রাস্তায় নামা এখন ঝুঁকির, আতঙ্কে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্থিরতা ছড়াতে চাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিনে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই রাজধানীর বাইরের লোক, যারা হেলমেট ও মাস্ক পরে হামলা চালাচ্ছে, এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার আরও সতর্ক করে বলেন, “নিজের গাড়ি কাউকে না দিন, আগন্তুক কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশকে জানান।” তিনি বলেন, অরক্ষিত ও কম যাত্রীবাহী বাসগুলোকেই টার্গেট করছে দুর্বৃত্তরা। তাই নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া এই নাশকতা দমন সম্ভব নয়। তার ভাষায়, “ঢাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো নাশকতাকারী টিকতে পারবে না।”
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম আশ্বস্ত করে বলেন, “লকডাউন নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে, কোনো আতঙ্কের কারণ নেই। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান।”
এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নাশকতা প্রতিরোধে চলছে সাঁড়াশি অভিযান, নজরদারি বেড়েছে, আর বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয়। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৩ নভেম্বরের ঘোষিত লকডাউন ঘিরে যে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
এদিকে দোকান মালিকরা বলছেন, “দেশের অবস্থা যাই হোক, জীবিকা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।” এক ব্যবসায়ী বলেন, “লকডাউনে আগুন লাগবে না, বরং যদি ব্যবসা বন্ধ রাখি তবে পেটে আগুন লাগবে।”
👉 সব মিলিয়ে, ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য হতে যাচ্ছে এক অগ্নিপরীক্ষার দিন — দোকানপাট খোলা, কিন্তু রাস্তায় ভয়, টহল ও উত্তেজনায় ঘেরা এক অজানা সকাল অপেক্ষা করছে দেশের জনগণের জন্য।