শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
ধুলাবালু দেখলেই হাঁচি? নাক বন্ধে ঘুম হারাম? সমস্যার মূলটা জানলে চমকে উঠবেন
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙে নাক বন্ধ আর একটানা হাঁচির ঝড় নিয়ে? সামান্য ধুলা-বালি বা ঠান্ডা হাওয়া লাগলেই নাক গুঁজে আসে, মাথা ভার হয়ে যায়, নিঃশ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে? এমন সমস্যা কিন্তু একেবারে সাধারণ নয়! এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ংকর দুটি কারণ—নাকের মাংস বৃদ্ধির সমস্যা বা ‘পলিপাস’। তবে এই দুটিকে এক মনে করলেই ভুল করবেন। কারণ, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এদের উৎস ও সমাধান একেবারেই আলাদা।
নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন অধ্যাপক ডা. এম আর ইসলাম (ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল) জানালেন, অনেকেই না জেনে ভুল ওষুধ খেয়ে দিনের পর দিন সময় ও অর্থ নষ্ট করছেন, অথচ সঠিক রোগ নির্ণয় আর চিকিৎসা পেলে পুরো সমস্যাটিই নির্মূল করা সম্ভব!
প্রথমেই পরিষ্কার করে রাখা দরকার—নাকের মাংস বৃদ্ধি আর পলিপাস এক নয়।
নাকের মাংস বৃদ্ধি মূলত “হাইপারট্রফিড ইনফেরিয়র টারবিনেট” নামে পরিচিত একটি অবস্থা। এটি সাধারণত হয় যখন নাকের হাড় বাঁকা থাকে (ডিভিয়েটেড নেজাল সেপটাম বা DNS) অথবা দীর্ঘদিন ধরে কেউ অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভুগে। এসব কারণেই নাকের ভিতরে ক্রমাগত প্রদাহ হয়, আর তখনই মাংস ফুলে ওঠে, যা নিঃশ্বাসে বাধা দেয়, ঘন ঘন ঠান্ডা লাগে, হাঁচি হতে থাকে এবং নাক প্রায় সব সময় বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে, পলিপাস হলো নাক বা সাইনাসে বেড়ে ওঠা নরম, নির্দোষ টিস্যু যা অনেক সময় বড় হয়ে নাকের ভেতর পথ আটকে দেয়। এটিও একই রকম উপসর্গ তৈরি করে—হাঁচি, নাক বন্ধ, নিঃশ্বাসে সমস্যা, এমনকি মাথাব্যথাও।
প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি ধাপ হলো সঠিক রোগ নির্ণয়। অনেকেই একে সাধারণ ঠান্ডা বা অ্যালার্জি ভেবে অ্যান্টিহিস্টামিন খেলেই সেরে যাবে ভাবেন, কিন্তু সঠিক কারণ না জেনে ওষুধ খেলে তা উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতে, যদি অ্যালার্জির কারণে নাকের মাংস বৃদ্ধি ঘটে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিচের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে হবে:
তবে অনেক সময় এই চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল না মিললে সার্জারির প্রয়োজন পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যেটি বলে “টারবাইনেক্টমি”—অতিরিক্ত মাংস কেটে ফেলে দেওয়া।
অন্যদিকে, যদি পরীক্ষায় ধরা পড়ে নাকে পলিপাস রয়েছে, তাহলে একমাত্র কার্যকর সমাধান হলো এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারি। এটি একটি আধুনিক এবং নির্ভুল পদ্ধতি, যার মাধ্যমে পলিপ সরানো হয় এবং রোগীর স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনা হয়।
নাক বন্ধ থাকা, বারবার ঠান্ডা লাগা কিংবা ঘন ঘন হাঁচিকে ছোটখাটো অসুখ ভাবার দিন শেষ! এই সমস্যাগুলোর পেছনে যদি থাকে অ্যালার্জি, মাংস বৃদ্ধি বা পলিপাস—তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এগুলো অবহেলা করলে পরে দীর্ঘমেয়াদি সাইনাস ইনফেকশন, মাথাব্যথা, ঘুমে সমস্যা এমনকি কানের সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
চোখে দেখা না গেলেও নাকের সমস্যাগুলো কিন্তু ধীরে ধীরে শরীরকে দুর্বল করে দেয়। তাই আর দেরি নয়—বিশেষজ্ঞ দেখান, সঠিক পরীক্ষা করুন এবং বেছে নিন কার্যকর চিকিৎসা। শ্বাস নিন মুক্তভাবে, জীবন উপভোগ করুন স্বাচ্ছন্দ্যে।