সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন
নিজের নকশায় দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে এনেছেন, শিকড়ের গল্প বলে যাচ্ছেন ডিজাইনার সাফিয়া সাথী
অনলাইন ডেস্ক
বিয়ের পোশাকে এক ঝলকেই চোখে পড়ে যাঁর ছোঁয়া, তিনি সাফিয়া সাথী। শাড়ির থ্রেডে, লেহেঙ্গার কাজ কিংবা কাটে যে নকশা গর্জে ওঠে—‘এই তো সাফিয়ার ডিজাইন!’—সেই চেনা স্বাক্ষরই তাঁকে বানিয়েছে ব্র্যান্ড, একজন সত্যিকারের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। দেশীয় উপকরণে নতুনত্ব এনে তিনি দেখিয়েছেন, রীতির ভেতরেও থাকতে পারে বিপ্লব।
সাফিয়ার কাজের মূল শক্তি তাঁর শিকড়ে ফেরার মনোভাব। জামদানি, টাঙ্গাইল বা সিল্ক—যা-ই হোক, প্রতিটি উপকরণে তিনি মিশিয়েছেন নিজস্ব আধুনিকতার ছোঁয়া। ঐতিহ্যের কাঠামো ভেঙে নয়, বরং তাকে আরও মহিমাময় করে তিনি তৈরি করেছেন এমন সব পোশাক, যা যুগের পর যুগ থাকবে প্রাসঙ্গিক। যেমন মেহজাবীন চৌধুরীর গায়েহলুদের বেগুনি লেহেঙ্গাটি, যেটি এখন ট্রেন্ডিং লিস্টের শীর্ষে।
পোশাকে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, সাফিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ আত্মবিশ্বাস। তিনি মনে করেন, সুতির সাদামাটা শাড়িতেও কেউ হয়ে উঠতে পারেন পার্টির তারকা—শুধু দরকার আত্মবিশ্বাস আর সঠিক কাটের ছোঁয়া। তাই প্রতিটি নকশা তৈরিতে তিনি বিবেচনায় রাখেন ঋতু, অনুষ্ঠান, এমনকি কার জন্য তৈরি হচ্ছে তাও।
তাঁর ডিজাইনে দেখা মেলে ভারী জারদৌসির পাশাপাশি দেশীয় তাঁতের হালকা ছোঁয়া। দেশজ কাপড় দিয়েই তৈরি করেন সামার জ্যাকেট, আবার বিলাসবহুল দাওয়াতের শাড়িও। তবে যেটাই বানান না কেন, তাতে থাকে তাঁর সিগনেচার স্পর্শ—নান্দনিকতা আর প্র্যাকটিক্যালিটির মিশেল।
তবে অদ্ভুত ব্যাপার—অন্যদের সাজাতে পারদর্শী সাফিয়া নিজেকে সাজাতে ততটাই সরল। বেশি সময় পেলে জড়িয়ে নেন ওভারসাইজ ট্রাউজার আর টি-শার্ট। কারণ তাঁর কাছে ফ্যাশনের মূলমন্ত্র—কমফোর্ট উইথ কানফিডেন্স।
সাফিয়া সাথী শুধু একজন ডিজাইনার নন, তিনি এক চলমান স্টাইল আইকন, যিনি দেশীয় ফ্যাশনের শরীরে দিয়েছেন এক নতুন প্রাণ।